ঢাকা , রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫ , ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
ভাগাড়সহ কোথাও ময়লা পোড়ানো যাবে নাÑ পরিবেশ উপদেষ্টা স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছে মানুষ চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোথাও নেইÑ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী আন্দোলনে বিএনপিসহ সমমনারা আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক সমাধান হবে জোটের মধ্যে ফাটল ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বিমানবন্দরে সিকিউরিটি বিভাগে ছন্দপতন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মানুষকে স্বাবলম্বী করবে জামায়াত পৃথক সচিবালয় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সহায়ক হবে- প্রধান বিচারপতি নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে -সিএমজিকে প্রধান উপদেষ্টা চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধে ফেঁসে যাচ্ছে অ্যাপল বগুড়ার ৭টি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা জরুরি আলো জ্বলছিল অ্যাম্বুলেন্সে, তবুও চলে গুলি ভাঙা চোয়াল নিয়ে ৪০ কি.মি. বাস চালিয়ে থানায় চালক পদ্মায় ঘুরতে গিয়ে নৌকা ডুবিতে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে বিনিয়োগ বাড়ানোই মূল চ্যালেঞ্জ শরীয়তপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ লাঙ্গলবন্দে মহাঅষ্টমীর স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীদের ঢল আপনার প্রতি অসম্মানজনক আচরণ দেখেছি
এখনো বহাল তবিয়তে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন মহাপরিচালক

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে চলছে বদলি বাণিজ্য

  • আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৪ ১০:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৪ ১০:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে চলছে বদলি বাণিজ্য
ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার এক মাস পার হলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ডিজিসহ আওয়ামী দোসরাই বহালতবিয়তে আছেন। সংস্কারের নামে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গড়ে তুলেছে বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেট। প্রধান কার্যালয় সফল। ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে শুরু হয়েছে বদলি বাণিজ্য। পতিত সরকারের আস্থাভাজন আমলা হিসেবে পরিচিত মহাপরিচালক খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান আসার পর আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জনশ্রুতি আছে, শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়ার কারণে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভোলা ও নোয়াখালী জেলায় ডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জেলা পর্যায়ে বিরোধীদল এবং ভিন্নমতের জনগণের উপর স্টিম রোলার চালানোর পুরষ্কার হিসেবে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এই কর্মকর্তাকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়। জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে কর্মকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দিলীয়করণ থেকে শুরু করে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, অন্যান্য ইসলামিক চিন্তা চেতনার দল এবং মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বহু মানুষের জীবন, পরিবার ধ্বংস করেছেন। সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে তার অধিনস্থ জুনিয়র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ কর্মকর্তারা বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, ছাত্রজনতার আন্দোলনকে নিষ্ঠুরতার সাথে দমন করেন। তার কর্মকালীন সময়ে অত্র অঞ্চলে ভিন্নমতের মানুষেরা মুখ খোলার সাহস তো দূরের কথা, সব সময় আতংক/ভয়ের মধ্যে দিন পার করেছে। নোয়াখালী জেলার ডিসি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার অত্যাচার, নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র অত্র অঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি তৎকালীন কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জিজ্ঞাসা করলে জানা যায়। 
স্বৈরচারী সরকারের দোসর এই কর্মকর্তা শেখ হাসিনার ক্ষমতা দেখিয়ে অত্যন্ত লোভনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের পদ বাগিয়ে নিয়ে হেন অপকর্ম করেনি। সব নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেআইনি ভাবে অত্যন্ত লোভনীয় মুল্যবান দুইটি প্লট এবং একটি ফ্ল্যাট বাগিয়ে নিয়েছেন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ (বিশ) কোটি টাকা।
অভিযোগ আছে, পাঁচ কোটি টাকার বিনিময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক নিয়োগ পান। মাদক অধিদফতরে যোগদানের পর তিনি দুর্নীতির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তবে স্বৈরচারী সরকারের পতনের সাথে সাথেই ভোল পালটে নিজেকে বিএনপি, জামায়াতের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেয়া শুরু করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি স্বৈরচারী সরকারের দোসর এই কর্মকর্তা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ছিলেন। প্রাইজ পোস্টিং এর কথা বলে প্রায় পনের কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। যারা টাকা দিয়েছেন তারা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং এর জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। যার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এছাড়াও তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে যোগদানের পর সরকারী টাকার অপচয় করে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে টুংগিপাড়ায় শেখ মুজিবর রহমানের মাজার জিয়ারতসহ বিরাট বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। অধিদফতরের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা পাওয়া যাবে। সেদিন তিনি ৫০/৬০ টা সরকারী গাড়ির বহরযোগে শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করতে যান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ডিজি হিসেবে যোগদান করার পরই তার নানা কার্যকলাপে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এতদিন কেউ কথা বলতে না পারলেও এখন সরকার পরিবর্তনে কর্মকর্তা কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে এক আবেদনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তার বিচার দাবি করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স