কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
গত ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানা ভাঙার কথা স্বীকার করেছেন সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সমন্বয়ক আবদুল মাজেদ। গত বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার খাজানগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চাঁদাবাজি রোধে চালকল মালিক ও স্থানীয়দের নিয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে থানা ভাঙার স্বীকারোক্তি দিয়ে বক্তব্য দেন তিনি। ৪ মিনিটের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওতে মাজেদকে বলতে শোনা যায়, ‘শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই শেখ হাসিনার সরকার পালাতে বাধ্য হয়েছে। কুষ্টিয়ায় শেষের দিন, যেদিন ক্ষমতা হস্তান্তর হয়, এখানে আন্দোলনকারীরা আছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করেন, কুষ্টিয়া থানা আমি মাজেদ নেতৃত্ব দিয়ে ভেঙেছি তিনি বলেন, ‘আমার তিনটা ছেলে, আমার পরিবার, আপনাদেরই ভাই, আপনাদেরই চাচি সে নিজেও এই আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত হয়েছে। আপনারা আপনাদের ছেলে-পেলেদের মারেও ঠেকাতে পারেন নাই। রক্তে যখন টান দেয়, তখন জনগণ স্রোত ঠেকানো যায় না। তাই জনগণের স্রোতে হাসিনা চলে গেছে। আমি আপনাদের বলব, আপনারা এমন কিছু করবেন না যাতে কুষ্টিয়ায় আমাদের দম বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষমতা চিরস্থায়ী না। জনগণ ভোট না দিলে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারবে না। কিন্তু আমাদের দম যেন বন্ধ না হয়। হানিফ, আতা এবং খুনি হাসিনার মতো যেন পালাতে না হয়।’ জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর কুষ্টিয়া মডেল থানায় চলে ব্যাপক ভাঙচুর। অস্ত্র ও জিনিসপত্র লুটপাট ছাড়াও থানায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ৯ আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানায় ৮-১০ হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আবদুল আলিম। এজাহারে থানায় হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ঘটনার এক মাস পার হলেও এই মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুল হক চৌধুরী। বক্তৃতার বিষয়ে জানতে জেলা যুবদলের সমন্বয়ক আবদুল মাজেদের মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য যদি তিনি দিয়ে থাকেন তাহলে ঠিক করেননি। বিষয়টি কেন্দ্রকে অবগত করা হবে। কেন্দ্র নির্দেশ দিলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
