খিলগাঁওয়ের নতুনবাগ ঝিলে জমির মালিকানা না হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া কাগজ তৈরির মাধ্যমে ঝিল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের এমন অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক রাওফুল আলম খান ওরফে শুভর বিরুদ্ধে।
রাওফুল আলম খান ওরফে শুভ যুবলীগ নেতা খালিদ মাহমুদ ভূইয়ার খুব একনিষ্ঠ কর্মী তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানা এবং রামপুরা থানায় অভিযোগসহ র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ আটক হয়েছেন কয়েকবার এবং খিলগাঁও তালতলা মৌলভীরটেকের আওয়ামী লীগ নেতা সৈকত তারা দুজনই ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের উপরে সরাসির হামলা হত্যার সাথে জড়িত জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি গত ৫ অক্টোবর ২০২১ সালে প্রথম আলো পত্রিকায় ”খিলগাঁওয়ের নতুনবাগ এলাকা ঝিলে যুবলীগ নেতা শুভ’র স্থাপনা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরে নড়েচড়ে বসেন গণপূর্ত।
এবিষয়ে ভূমি অধিগ্রহণ সূত্রে এর মালিক সরকারের গণপূর্ত অধিদফতর দ্বাবি করে বলেন, ষাটের দশকে নতুনবাগের ২ দশমিক ৬৮ একর ঝিলের জায়গা সরকার অধিগ্রহণ করে। দখল হওয়া ওই জমি উদ্ধারে এখন পর্যন্ত তারা তিন দফায় রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে ওই জায়গা দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জমি উদ্ধার করা হবে এবং নতুনবাগ ঝিলের জায়গাটি দেখভাল করছে গণপূর্তের রেলওয়ে ডাইভারশন উপবিভাগ।
উপবিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই জায়গা যাতে কেউ দখল না করেন, তাই সেখানে সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সাইনবোর্ড ফেলে দেয়া হয়েছে। গেল বছরের জানুয়ারি মাসে ঝিল ভরাটের প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়, দখলদারদের বাধা দিয়েও দখল ঠেকানো যায়নি। এখন পর্যন্ত সেখানে সরকারের অধিগ্রহণ করা ৩৩ শতাংশ জমি দখল হয়ে গেছে।
গণপূর্ত রেলওয়ে ডাইভারশন উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ এস এম সাখাওয়াত ইসলাম বলেন, সরকারি জমি উদ্ধারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পেয়েছেন। শিগগিরই সেখানে অভিযান চালানো হবে। অবশেষে শেষ সময়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আটকে গেল উচ্ছেদ। মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট নেই বলে জমি উদ্ধারের অভিযান চালানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা।
সেই ম্যাজিস্ট্রেটের জোগাড় হলো, নেয়া হলো সব প্রস্তুতিও। কিন্তু শেষ সময়ে এসে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হলো, উচ্ছেদ আপাতত চালানো যাবে না। এতেই রাজধানী খিলগাঁওয়ের নতুনবাগ এলাকায় ঝিল ভরাট করে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা থেকে সরে এল গণপূর্ত অধিদফতর।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার কথা ছিল। সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পুলিশ মোতায়েন নিশ্চিত করাসহ স্থাপনা ভাঙার যন্ত্র ঠিক করে রেখেছিল গণপূর্ত অধিদফতরের রেলওয়ে ডাইভারশন উপবিভাগ। কিন্তু গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসে, উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি ঝিল ভরাট করে নতুনবাগে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক রাওফুল আলম খান ওরফে শুভ। এই কাজে তাঁকে সহায়তা করেছেন সরকারেরই আরেকটি সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এম এম আহসান আলম ওরফে সৈকত।
এম এম আহসান আলম ওরফে সৈকতের বিরুদ্ধে মৌলভীরটেকে মাদক কেনা বেচা এবং সেবনসহ বিস্তর অভিযোগ জানান এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী বলেন, জমির মালিক রাওফুল আলম খান শুভ না তাহলে সে নিজের জমি দাবি করে মামলা করে কি করে? ভুয়া দলিল দিয়ে নামজারিসহ অন্যান্য বিষয়ে আদালতে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন জানান শুভ। রাওফুল আলম খান ওরফে শুভ’র আসল কোন ঠিকানা নেই মামলায় যে ঠিকানা দিয়েছে সেটাও ভুয়া সে কখনও বলে মৌলভীরটেক থাকেন কখনও খিলগাঁও পল্লীমা স্কুলের সামনে আবার কখনও রামপুরা বনশ্রী।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
