ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী

কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা

  • আপলোড সময় : ২৭-০৮-২০২৪ ০১:০০:১০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০৮-২০২৪ ০১:০০:১০ পূর্বাহ্ন
কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা
গণপূর্ত অধিদফতরে প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আস্থাভাজন হওয়ার কারণে এই দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে প্রায় চার বছর ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে চলতি দায়িত্বে রাখা হয়েছে। এনিয়ে বৈষম্যের শিকার বঞ্চিত গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার প্রধান প্রকৌশলী পদে যোগদান করার পর থেকেই অস্থিরতা চলছে গণপূর্ত প্রকৌশল অধিদফতরে। আওয়ামী ঘরানার প্রকৌশলীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে লোভনীয় জোন ও বিভাগে পদায়ন ও বদলি করে গোটা গণপূর্ত অধিদফতরকে কলঙ্কিত করেছে শামীম আখতার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদফতরে প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মনিটরিং) মো. আশফাকুল ইসলাম বাবুলকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রায় এক বছর আগে তদন্ত প্রতিবেদন সচিবের কাছে জমা দিলেও প্রধান প্রকৌশলী মন্ত্রীর কাছের লোক হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করে তদন্ত প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থার কর্মকর্তারা। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণ হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মনিটরিং) মো. আশফাকুল ইসলাম বাবুলকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রায় এক বছর আগে তদন্ত প্রতিবেদন সচিবের কাছে জমা দিলেও প্রধান প্রকৌশলী মন্ত্রীর কাছের লোক হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করে তদন্ত প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থার কর্মকর্তারা। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণ হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বিসিএস (পাবলিক ওয়ার্কস) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের মেধাতালিকার প্রথম স্থানে থাকা আশরাফুল আলমের বাড়ি বগুড়া হওয়ার কারণে প্রধান প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক মাস পরেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে ছয়জনকে ডিঙিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল শামীম আখতারকে। মন্ত্রীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে প্রভাব বিস্তার করে মেধা তালিকায় ৭ নম্বরে থাকার পরও প্রধান প্রকৌশলী পদে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর চলতি দায়িত্ব পান শামীম আখতার। প্রায় চার বছর ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ (গ্রেড-১) এই পদে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ছয় মাসের বেশি কাউকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না।
প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে ঘিরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল আলম ও কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট টেন্ডার ও পোস্টিং বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। শামীম আখতার হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক থাকাকালীন তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংডম বিল্ডার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে কার্যাদেশ দেয়াসহ কোটি কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মনিটরিং) মো. আশফাকুল ইসলাম বাবুলকে আহ্বায়ক করে দুজন যুগ্ম সচিবকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি অভিযোগগুলোর মধ্যে তিনটি অভিযোগের প্রমাণ পায়। প্রায় এক বছর আগে তদন্ত প্রতিবেদন সচিবের কাছে জমা দিলেও প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এইচবিআরআইয়ের গবেষণা খাতে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। গবেষণা খাতের এ টাকা থেকে ১ কোটি ১১ লাখ টাকায় ‘অটোমেটিক ব্লক মেকিং প্লান্ট’ স্থাপন করা হয়। এ কাজও পায় কিংডম বিল্ডার্স। ঠিকাদারকে সব বিল পরিশোধ করা হলেও প্লান্টটির কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এ ধরনের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংস্থার অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রকৌশলীদের নিয়ে কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও সে ধরনের কোনো কমিটিই হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে শামীম আখতারের বক্তব্য, তার দাখিলকৃত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অফিসে রক্ষিত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার কর্তৃক সব যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং কাঠামো নির্মাণ করা হলেও কার্যত এটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। সব মেশিনারিজ স্থাপন করার পর প্লান্টটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য প্রাথমিকভাবে চালু করা হলে কিছু ত্রুটি দেখা দেয় এবং মানসম্পন্ন প্রোডাক্ট পাওয়া যাচ্ছিল না। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও প্লান্টটি সম্পূর্ণরূপে চালু অবস্থায় বুঝে না পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরাবরে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো কারিগরি কমিটি কর্তৃক বাস্তবায়ন প্রতিবেদন নেয়া হয়নি। সার্বিক পর্যালোচনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ফাংশনাল অবস্থায় বুঝিয়ে না দেয়া সত্ত্বেও ওই প্রকল্পটির সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। অর্থাৎ প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম না হলেও বিল পরিশোধে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে। তাছাড়া শামীম আখতারের বদলির পর পরবর্তীতে বর্ণিত প্লান্টটির বিষয়ে কোনো কার্যক্রমই গ্রহণ করা না হওয়ায় প্লান্টটির মেশিনারিজ অযত্নে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় প্লান্টটির ক্ষতি হচ্ছে মর্মে তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্লান্টের শেড নির্মাণের জন্য ৭০ লাখ টাকার কাজে কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই কিংডম বিল্ডার্সকে নিযুক্ত করা হয়। অর্ধকোটি টাকার কাজ আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্থি এন্টারপ্রাইজকে দেয়া হয় যার মালিক আল আমীন ও শামীম আখতারের (পীর সাহেব) মুরিদ। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ই-জিপির উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৭০ লাখ টাকার প্রকল্পটির টেন্ডার করা হয়। তবে প্রকল্পটি ২০১৯ সালের হলেও নথিতে রক্ষিত চুক্তিপত্রটি ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছে মর্মে দেখা যায়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, চুক্তিপত্রটি যথাসময়ে স্বাক্ষর না করে পরবর্তীতে করা হয়েছে। অর্থাৎ ওই প্রকল্পটি চুক্তি স্বাক্ষর না করেই বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। তা ছাড়া অভিযোগে বর্ণিত অর্ধকোটি টাকার আরেকটি কাজের তথ্য বিশ্লেষণে মনে হয় এটি একটি পৃথক কাজ। সুতরাং অভিযোগে উল্লিখিত ৭০ লাখ টাকার প্রকল্পটির চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মের ব্যত্যয় করা হয়েছে বলে কমিটির নিকট প্রতীয়মান হয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগের বিবরণে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৈনিক ২০ ঘনমিটার ব্লক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যে ‘এএসি প্লান্ট’ উন্নয়ন কাজে ২০১৯ সালে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। কাজটি করে কিংডম বিল্ডার্স, অর্থি এন্টারপ্রাইজ ও জামান বিল্ডার্স। ঠিকাদারদের সিংহভাগ বিল দেয়া হলেও এখানেও চালু হয়নি প্লান্টটি, উল্টো কাজ শেষ করতে আরও সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা। অভিযোগের বিষয়ে শামীম আখতারের বক্তব্য, তার দাখিলকৃত কাগজপত্র এবং সংরক্ষিত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় বিল প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথা অনুযায়ী এমবি (মেজারমেন্ট বুক) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। কারিগরি যন্ত্রপাতি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির গুণগত মান নিশ্চিত না হয়েই প্রায় ৯০ শতাংশ বিল প্রদান করায় নিয়মের ব্যত্যয় করা হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। এ ছাড়া একই মাসে প্রায় ১ কোটি টাকার এইচবিআরআইয়ে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ পায় তার মুরিদের প্রতিষ্ঠান কিংডম বিল্ডার্স। চুক্তির চেয়ে ঠিকাদারদের ৮ লাখ টাকা বেশি বিল দেয়া হলেও কাজটি থেকে যে অন্যদিকে দরপত্রের আগেই অফিস সংস্কারের কাজ শুরু করে দেয় অর্থি এন্টারপ্রাইজ।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, গত চার বছর ধরে সমস্ত নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদউল্লাহ খন্দকারের দুর্নীতির সহযাত্রী হিসেবে সাত নম্বরে সিরিয়ালে থাকা শামীম আখতারকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই পদে তখন ছিলেন ১৫তম বিসিএসে গণপূর্ত ক্যাডারে প্রথমস্থান  অর্জনকারী একজন মেধাবী প্রকৌশলী যিনি তালিকায় প্রথম ছিলেন। সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেয়ায় তাকে ১১ মাসের মাথায় অপসারণ করা হয় যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নীতি বিরোধী। শুধু তাকে অপসারণ করে ক্ষান্ত হয়নি  ২৪ ঘণ্টার নোটিশে প্রধান প্রকৌশলীর বাসভবনের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দিয়ে রাতের অন্ধকারে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। যা অমানবিক এবং মানবতা বিরোধী। তার একটাই অপরাধ মেধাবী হয়েও তিনি জন্মেছিলেন বগুড়ায়।  অথচ অনিয়ম দুর্নীতি করেও আজও দুর্নীতিবাজ সচিব শহিদুল্লা খন্দকারের দোসর শামীম আখতার চার বছর  ধরে লুটেপুটে খাচ্ছে গণপূর্ত অধিদফতর।  তিনি অনিয়মের মাধ্যমে সালমান এফ রহমানসহ দুর্নীতিবাজদের সহযোগী ছিলেন। সম্প্রতি রমনা পার্কের ভেতরের চাইনিজ রেস্টুরেন্টের টেন্ডারে প্রথমজনকে না দিয়ে মোটা অংকের বিনিময়ে সালমান এফ রহমানের ক্যাডার  তৃতীয় ব্যক্তিকে রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেন। যা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন  গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার। গণপূর্ত অধিদফতরের টেন্ডারবাজি থেকে বদলি বাণিজ্য সব কিছুই তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করে থাকেন তিনি। কমিশন বাণিজ্য কিভাবে কোন পদ্ধতিতে করতে হয় তা তিনি  ভালোই জানেন। এছাড়াও কম্বোডিয়ায় তিনি নিয়মিত যাতায়াত করেন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার তার অনুগত কিছু প্রকৌশলী নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। এই সিন্ডিকেটের সাথে তৎকালীন গণপূর্ত  প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার রয়েছেন এবং তাদের নেতৃত্বেই টেন্ডারবাজি ও বদলি বাণিজ্য হয়ে থাকে।  সিন্ডিকেট সদস্যরা গত এক চার বছরে  কেবল বদলি খাতেই প্রায় এক হাজার  কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে গণপূর্তের সকলেই তা জানেন।  তারা অর্থের লোভে এতটাই অন্ধ হয়ে পড়েছেন যে, পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালাও মানছেন না। এতে গণপূর্ত অধিদফতরের ভেতরে বাইরে  চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।  প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার যোগদানের পর থেকে আজ অব্দি নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেননি। ফলে প্রকৌশলীরা বসে বসে বেতন নিচ্ছেন। গোটা অধিদফতরে একটা স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রকৌশলী বলেন, প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের গণপূর্ত অধিদফতর চালানোর মতো কোনো যোগ্যতাই নেই। সূত্র মতে, তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে এসে বিতর্কিত তিনজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে চট্টগ্রাম, রংপুর ও গোপালগঞ্জ বিভাগে পদায়ন করেছেন। এই তিন প্রকৌশলী হলেন: চট্টগ্রাম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী  মো. আবুল খায়ের, গোপালগঞ্জ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী আবু হানিফ ও রংপুর জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল গফ্ফার। এই তিন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বদলি বা পদায়নে ২০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে মর্মে গণপূর্ত ভবনে প্রচারণা আছে। তার নতজানু নীতি, প্রীতি ও নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ভেঙে পড়েছে গণপূর্ত অধিদফতরের চেইন অব কমান্ড। এখন কোনো প্রকৌশলীই তার আদেশ নির্দেশ পালন করেন না। এতে করে গণপূর্ত অধিদফতরে এক লেজেগোবরে অবস্থার বিরাজ করছে। দায়িত্ব পালনের ৪ বছরে তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর পাস করা প্রকল্পগুলোর কাজ ছাড়া নিজ প্রস্তাবনায় নতুন কোনো প্রকল্প পাস করাতে পারেননি। এমনকি সরকারকে দিতে পারেননি নতুন কোনো পরিকল্পনা।
 অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির দায়ে দুদকের জালে  গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার। ইতোমধ্যে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট তার প্রমাণ পেয়েছে। গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার সরকারি আবাসন গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাউজিং-এ বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এইচবিআরআই)-এর মহাপরিচালক থাকাকালীন নানা অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। জেনারেটর, সাবস্টেশন ও অটো ব্লক মেকিং প্ল্যান্ট স্থাপনে অনিয়ম এবং ২৮ জন নিরাপত্তাকর্মী কাজ করলেও ৪১ জনের বেতন উত্তোলন প্রভৃতি অনিয়ম-দুর্নীতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় থেকে  দুই সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম গত ০৬-১১-২০২২ তারিখে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদফতরের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স