ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
কৃষি বিভাগের তথ্য : চলতি বোরো মৌসুমে গতবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ দাম বেড়েছে। জাতভেদে প্রতি মণ ধানের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত

দাম বাড়লেও বোরো ধানে লোকসান গুণছে কৃষক

  • আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৪ ১১:১৬:১২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৪ ১১:১৬:১২ পূর্বাহ্ন
দাম বাড়লেও বোরো ধানে লোকসান গুণছে কৃষক
কৃষকের তথ্য
কৃষিজ উপকরণ সার, কীটনাশক, শ্রমিক খরচ, সেচ ও অনান্য খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে




দাম বাড়লেও বোরো ধানে লোকসান গুনছে কৃষকচলতি বোরো মৌসুমে গতবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ দাম বেড়েছেজাতভেদে প্রতি মণ ধানের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ততারপরও লোকসান গুনছে কৃষকমূলত কৃষিজ উপকরণ সার, কীটনাশক, শ্রমিক খরচ, সেচ ও অনান্য খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় এই লোকসানে পড়েছেন কৃষকরাকৃষি বিভাগ এবং কৃষকদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছর প্রতি বিঘা জমিতে গত বছরের চেয়ে সার প্রয়োগে এক হাজার টাকা, কীটনাশকে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, শ্রমিক খরচ এক থেকে তিন হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়েছেগত বছর প্রতি বস্তা সারের দাম ছিল ৮০০ টাকাএবার তা বেড়ে ইউরিয়া সার ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছেপটাশ সার ৭০০ থেকে দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৪০০ টাকাপ্রতি বিঘা ধানে কীটনাশক স্প্রে করতে খরচ হয়েছিল দুই থেকে চার হাজার টাকাবর্তমানে খরচ হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকাএর সঙ্গে শ্রমিকের মজুরিসহ অন্যান্য বাড়তি খরচ তো আছেইআবার অনেক জেলায় বিঘাপ্রতি ফলন দুই থেকে চার মণ কম হয়েছেগত বছর প্রতি মণ ধানের দাম এক হাজার টাকার নিচে ছিলতখন ফলন ভালো হওয়ায় মুনাফা করতে পেরেছিলেন কৃষকচলতি বছর ধানের দাম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছেকিন্তু খরচ বাড়ার সঙ্গে ফলন কম হওয়ায় লোকসানে পড়েছেন কৃষক
সূত্র জানায়, এবার বোরো ধান চাষ করে বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন চুক্তিতে জমি চাষ করা কৃষকরাসব খরচের পাশাপাশি বর্গাচাষিদের এবার বিঘাপ্রতি বাড়তি প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছেমূলত সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় উচ্চমূল্যে জমি চুক্তি নিয়ে চাষ করা বর্গাচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেনএ বছর বোরো মৌসুমে অনেক স্থানেই বৃষ্টি হয়নি বললেই চলেপাশাপাশি পোকার আক্রমণও বেশি ছিলদাবদাহে বেশি সেচ দিতে হয়েছেফলে আগের বছর যেখানে বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছিল ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা, এ বছর খরচ হয়েছে বিঘাপ্রতি ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকাসেচ ও শ্রমিক খরচ বেশি হওয়ায় এই বাড়তি খরচ হয়েছেগত বছর ধানের দর ছিল প্রতি মণ গড়ে ৮৫০ টাকাফলন হয়েছিল গড়ে প্রতি বিঘায় ২৭ মণওই হিসেবে প্রতি বিঘা জমির ধান বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২৩ হাজার টাকাএ বছর ধানের দাম প্রায় দেড়শ টাকা বেড়েছেকিন্তু এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধান পাওয়া গেছে ২৫ মণের কমফলে ধানের দাম বাড়লেও লাভ হয়েছে খুব কম
সূত্র আরো জানায়, নওগাঁ জেলার বৃহত্তর ধান বেচাকেনার হাট মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরিতে মানভেদে প্রতি মণ ব্রিধান২৮ জাতের ধান এক হাজার ১১০ থেকে এক হাজার ১৫০ টাকা, সুভলতা এক হাজার ১৮০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, জিরাশাইল এক হাজার ২৪০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা এবং কাটারিভোগ এক হাজার ২৯০ থেকে এক হাজার ৩১০ টাকা দরে বেচাকেনা হয়অথচ এই ধান মৌসুমের শুরুতে বেচাকেনা হয়েছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা কম দামেপ্রতি মণ ব্রিধান২৮ ছিল সর্বোচ্চ এক হাজার ৮০ টাকা, সুভলতা এক হাজার ১০০ টাকাএ ছাড়া জিরাশাইল এক হাজার ১৮০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা এবং কাটারিভোগ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা বিক্রি হয়েছেবর্তমানে কৃষকের কাছে ধানের মজুদ প্রায় শেষফলে বাজারে ধানের দাম বাড়ছেতবে মৌসুমের শুরুতে সরকারিভাবে ন্যায্য দামে ধান সংগ্রহ করা গেলে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হতেনকিন্তু সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে গতি না থাকায় চলতি মৌসুমে পাঁচ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছেগত ৭ মে থেকে শুরু হয়েছে ধান সংগ্রহ, শেষ হবে ৩১ আগস্টজুন মাস শেষে মোট ধানের মাত্র ৩০ শতাংশ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, যদিও ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে বর্তমানে ধানের মজুদ খুবই কমমজুদ যা রয়েছে সব ব্যবসায়ী ও মিলারদের কাছেএ কারণে সরকারি সংগ্রহের সুফল কৃষকরা পাচ্ছেন না
এদিকে কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মতে, ভরা মৌসুমেও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম দুই থেকে চার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন মিল মালিক ও আড়তদাররাপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ও বন্যার অজুহাতে তাঁরা এই খরচ বাড়িয়েছেন; যার নেতিবাচক প্রভাব শিগগিরই রাজধানীর বাজারে পড়তে যাচ্ছেএ কারণে বাজারে এখন থেকে অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজনসরকার মোটা চাল সংগ্রহের পাশাপাশি সরু চাল কেনা শুরু করলে বাজারের এই অস্থিরতা কমবেসেই সঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্দেশ্যও সফল হবেমূলত মৌসুমের শুরুতেই কৃষকরা ধান বিক্রি করে দেনকারণ ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঋণ ও অনান্য খরচ মেটানোর চাপ থাকেফলে বাজারে কম দামে তাঁরা ধান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হনকিন্তু ওই সময়টায় যদি সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম গতিশীল থাকে, তাহলে কৃষক কিছুটা উপকৃত হনসেটি না হওয়ায় গত এক যুগের বেশি সময় ধরে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফল হচ্ছে নাসরকার একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে নূন্যতম লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে নাউল্টো তারা মিলার ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছেদেশে কয়েক কোটি টন ধান উৎপাদিত হলেও সংগ্রহ হয় মাত্র পাঁচ লাখ টনএটি কোনোভাবেই কাম্য নয়আবার ধান দিতে গিয়ে বহু রকম হয়রানির শিকার হন কৃষকএ কারণে কৃষকের ক্ষেত থেকেই ধান সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করতে হবেপাশাপাশি চাল সংগ্রহ কমিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আরো বাড়াতে হবেসরকারের খাদ্যগুদাম ৫০ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে
অন্যদিকে এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপর সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জানান, বর্তমানে বোরোর ভরা মৌসুম চলছেবাজারে ধানের সরবরাহে সংকট নেইএই সময় চালের দাম বেড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিকগত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে মানভেদে প্রতি কেজি চালের দাম দু-তিন টাকা বেড়েছেকারণ এখনো জেলার বেশির ভাগ চালকল বোরো মৌসুমের ধান থেকে চাল উৎপাদন শুরু করেনিমোকামে চালের সরবরাহ সংকটের কারণে বর্তমানে বেশি দামে চাল বেচাকেনা হচ্ছেচালকলগুলো পুরোপুরি চালু হলে দ্রুত চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স