বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের একদফা দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশে ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। এতে গত সোমবার আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে সারাদেশের জনগণ। তবে রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষুব্ধ জনতা ও পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও গণপিটুনিতে অন্তত ১৬৩ জন নিহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘিরে গত সোমবার রাজধানীতে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৪০ জনের মরদেহ এখনো পড়ে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। একইসঙ্গে ঢামেকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে ৩৯৭ জনকে এবং ভর্তি নেয়া হয়েছে ৭১ জনকে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও জানা গেছে গণআন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। থানায় থানায় হামলা হয়। এসব ঘটনায় পুলিশের গুলিতে উত্তরায় ৯ জন মারা গেছেন। আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৫ জনের বেশি মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল হাসান এতথ্য নিশ্চিত করেন। সাভার থানা রোডের মুক্তিরমোড়সহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে ছাত্র-জনতার মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯-এ। এখনো অনেক পাড়া-মহল্লা থেকে মৃত্যুর খবর আসতেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের উিউটি অফিসার মো. ইউসুফ আলী বলেন, তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আটজন হাসপাতালে আসার পথে পাঁচজনসহ ১৩ জন মারা যায়। নিহতের সংখ্যা আরো চার থেকে পাঁচজন বাড়তে পারে এবং গুলিবিদ্ধ এখনো প্রায় ১৫০ জন ভর্তি রয়েছে। সাভার এখনো থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণহীন। গত সোমবার রাতে বিক্ষুব্ধ জনতার দেয়া আগুনে সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা, সাভার প্রেসক্লাব, উত্তরা পূর্ব থানা, পল্টন থানা ও যাত্রাবাড়ী থানাসহ বিভিন্ন থানা পড়ে গেছে।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন পাঁচ তারকা হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে অগ্নিসংযোগে ২৪ জন নিহত হয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের পর গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। যশোর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক এএম মামুন গতকাল মঙ্গলবার জানান, জাবির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, জাবির হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত ২৪ জনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে আনে ফায়ার সার্ভিসের টিম। আহত হয়েছেন দেড়শ জনের মতো। আহতদের মধ্যে অনেকেই আশঙ্কাজনক।
কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। গত সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হামলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ গুলি চালালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ নিহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শিশুসহ ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, ৬ জনের মরদেহ আমরা পেয়েছি। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে ৬ জন, মহানগরীর বাসন থানায় পুলিশের গুলিতে একজন ও কালিয়াকৈরে আনসার সদস্যদের গুলিতে দুইজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এতে অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী ও উৎসুক জনতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় শ্রীপুরে বিজিবির তিনটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জারিন ফারা বলেন, বিকেলের দিকে চারজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মানিকগঞ্জে নৌপুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রফিকুল ইসলাম চঞ্চল (২১) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আন্দোলনকারীরা উত্তেজিত হয়ে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও শিবালয় থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। গত সোমবার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক অমিত রায়। নিহত রফিকুল ইসলাম চঞ্চল উপজেলার রুপসা গ্রামের রহিজ উদ্দিনের ছেলে ও মানিকগঞ্জের মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।
চুয়াডাঙ্গা শহরের সিনেমা হল পাড়ায় জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলমের বাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছেন চারজন। চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভবনের চারতলায় চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ পুড়ে বিকৃত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৯ নম্বর পোড়াহাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরনকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একই সময় তার গাড়িচালক আক্তার মিয়াকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এদিকে কালীগঞ্জ শহরের ঢাকালে পাড়ায় আগুনে পুড়ে রাব্বি (১৩) এবং মনজু (২০) নামের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলের বিভিন্ন সময় এ ঘটনা ঘটে। চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে নায়ক শান্ত খানকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গত সোমবার শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর নিজ এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজারে এসে জনরোষে পড়েন তিনি। সেখানে নিজের পিস্তল থেকে গুলি করে পালিয়ে বাগাড়া বাজারে এলে ফের জনতার মুখোমুখি হন। সেখানেই তাকে এবং তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ মুহসীন আলম বলেন, তাদের মৃত্যুর বিষয় আমরা জেনেছি। তবে আমাদের জানমালের নিরাপত্তার কারণে সেখানে যাইনি। খুলনার কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম মোহসিন রেজাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর তার মরদেহ যেন খুঁজে না পাওয়া যায় সেজন্য আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কয়রার আরও দুই জন সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি সেখানে ছিলেন বলে এলাকাবাসী জানায়। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে উপর মহলের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারছি না। আমরা থানায় অবস্থান করছি।
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুমন খানের থানা রোড (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন) এলাকার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধরা। এ ঘটনার পর তার বাড়ি থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত সোমবার রাত তিনটায় মরদেহগুলো আওয়ামী লীগ নেতার পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। নিহতদের মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ৬ জনের মরদেহ লালমাইয়ের সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এদিন বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও তার পরিবারের কেউ ছিল না।
শরীয়তপুরের জাজিরায় মাসুদ বেপারী (৩৫) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার হরিয়াসা এলাকায় আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের সময় মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বিকেলে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন। নাটোরে সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাসভবন জান্নাতি প্যালেস থেকে অগ্নিদগ্ধ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শহরের কান্দিভিটুয়া এলাকায় সংসদ সদস্য শিমুলের বাড়িতে সাধারণ মানুষ মরদেহ দেখতে পায়। দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্তর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর তার বাড়ি থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় পুড়ে যাওয়া বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এর আগে বিকেলে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়িতে মেয়র ও তার পরিবারের কেউ ছিলেন না।
কুমিল্লার তিতাসে গণপিটুনীতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত ১টার দিকে জেলার তিতাস থানায় এ ঘটনা ঘটে। তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কান্তি দাস বলেন, গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা দফায় দফায় থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। এক পর্যায়ে রাত ১টার দিকে থানার গেইটে দায়িত্বে থাকা আমার দুই সহকর্মীকে তারা পিটুনী দিয়ে হত্যা করেন। এছাড়াও তাদের হামলায় আমিসহ আমার অনেক সহকর্মী আহত আছেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী আমাদের উদ্ধার করেন।
নড়াইল সদর উপজেলায় মাজেদুল ইসলাম খান (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গত সোমবার রাতে সদর উপজেলার বরাশুলা ইদগাহ্ ময়দানের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাজেদুল ইসলাম খান উপজেলার বরশুলা গ্রামের জাফর খানের ছেলে। নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব?রিশালের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহ এম?পির কা?লিবা?ড়ি রোডের পুড়িয়ে দেয়া বা?ড়ি? থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী ও চাটখিল থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সোনাইমুড়ি থানা পুলিশ হামলাকারীদের ওপর গুলি ছুড়লে সংঘর্ষ আরো তীব্র হয়। এতে সোনাইমুড়ি থানার চার পুলিশসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
শেখ হাসিনার পদত্যাগ পরবর্তী সহিংস ঘটনায় সাতক্ষীরার আশাশুনি ও সদর উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে আরও ১০/১২ জন। সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের নাকনা এবং সদর উপজেলার বৈকারী গ্রামে পৃথক ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আহতদেরকে সাতক্ষীরা সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাকনা গ্রামের মৃত আমিনুর রহমানের ছেলে শেখ জাকির হোসেন (৫৩), একই গ্রামের শেখ শাহাজুর রহমান সাজুর ছেলে শেখ শাকের (২২), মৃত শেখ সুজাত আলীর ছেলে শেখ জাহাঙ্গীর (৪৮), মৃত শেখ আরিফুল ইসলাম এর ছেলে শেখ আশিক (৩৩), লস্করী খাজরা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শাহিন আলম (২২), একই গ্রামের শেখ আজুয়ার রহমানের ছেলে সজীব (২২), কুড়িকাউনিয়া গ্রামের ওয়ারেজ আলী মোড়লের ছেলে হাফেজ আনাস বিল্লাহ (২১) ও একই ইউনিয়নের কল্যানপুর গ্রামের নুর হাকিম ঘোরামীর ছেলে আদম আলী (২৩) ও হিজলিয়া গ্রামের ছাত্তার সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেন (১৬) এবং সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের বৈকারী গ্রামের মৃত রাফেল সরদারের ছেলে আসাফুর রহমান (৬০)।
প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী জানান, সোমবার কয়েক শ’ বিক্ষুদ্ধ জনতা মিছিল নিয়ে নাকনা গ্রামের জাকির চেয়াম্যানের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার বাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এক পর্যায় বিক্ষুদ্ধ জনতা জাকির চেয়ারম্যানের বাড়ির গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি (জাকির) বাড়ির দোতালা থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০/১২ জন আহত হয়। এসময় ক্ষুদ্ধ জনতা তার বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। গুলিবিদ্ধ আহতদের চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে হাফেজ আনাস বিল্লাহ, আদম আলী ও আলমগীর মারা যান। পরে তাদের মরদেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনলে বিক্ষুদ্ধ জনতা জাকিরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা জাকিরের বাড়িতে ঢুকে তাকেসহ তার সাথে থাকা শাকের, জাহাঙ্গীর, শাহিন আলম, সজীব ও আশিককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মেরে ফেলে। এসময় বাড়িতে থাকা জাকিরের স্ত্রী ও মেয়েদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ তারা করে দেয়। চেয়ারম্যান আরো জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহতদের মরদেহগুলি শনাক্ত করা হয়েছে। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিশ্বজিত অধিকারি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে সদর হাসপাতালে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন * আনন্দ উল্লাসের সময় দফায় দফায় সংঘর্ষ হামলা ও গণপিটুনি ঘটনা ঘটে * হামলা হয় বিভিন্ন পুলিশের ফাঁড়ি-থানা * আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণহীন এখনো থমথম অবস্থা বিরাজ করছে
গণপিটুনি সংঘর্ষ হামলা নিহত ১৬৩ জন
- আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৪ ১২:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৪ ১২:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ