জনতা ডেস্ক
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। দু-একদিন ধরে বৃষ্টির প্রবণতা একটু কম, তবে আগামী সপ্তাহে তা আবার বাড়তে পারে। দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কোনো কোনো পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে এ পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল শুক্রবার সকালে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। তবে এসময়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বুলেটিনে আরও বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ধীরগতিতে বাড়তে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও সমতলে বাড়ছে, এ পরিস্থিতি আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীর পানি সমতলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বাড়তে পারে। তাতে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতলে কিছু পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি ঘাঘট নদী সংলগ্ন গাইবান্ধা জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যমুনাশ্বরী, করতোয়া, বাঙ্গালী, আপার করতোয়া, পুনর্ভবা, টাঙ্গন, ইছামতি-যমুনা, আত্রাই, মহানন্দা এবং ছোট যমুনা নদীর পানিও সমতলে দ্রুত বাড়তে পারে বলে বুলেটিনে বলা হয়েছে। তবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি সার্বিকভাবে কমছে, এ অবস্থা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এবার জুনের শুরুতে প্রবল বর্ষণ আর উজানের ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। কয়েক দিন পর পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গত ১৭ জুন কোরবানির ঈদের আগের দুদিন থেকে টানা বৃষ্টিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণাসহ আশপাশের জেলার অনেক এলাকা ডুবে যায়। উজানের ঢলে জুলাইয়ের শুরুতে নতুন করে বন্যা দেখা দেয় ওই তিন জেলায়। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে চাঁদপুরে। এছাড়া নোয়াখালীর মাইজদীকোর্ট ও নীলফামারীর ডিমলায় ৪৫, ফরিদপুরে ৩৮, দিনাজপুরে ৩৬ মিলিমিটারসহ সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে হালকা, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি ধরনের ভারি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে তাকে বলা হয়ে থাকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত।
কুড়িগ্রামে বিপদসীমার ওপরে ব্রহ্মপুত্রের পানি: কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী, নুনখাওয়া ও হাতিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা এবং গ্রামের পর গ্রাম। প্লাবিত হয়েছে নদ-নদী তীরবর্তী ৪১ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ২ শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। তবে জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে দুর্যোগ কবলিত মানুষের সংখ্যা ৬২ হাজার ২শত। গতকাল শুক্রবার (৫ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার ও হাতিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের পানি হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষজন। বানভাসি পরিবারগুলো বসতবাড়ীতে বাঁশের মাচান, নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অধিকাংশ পরিবারে ৫ দিন ধরে চুলা জ্বলছে না। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে তাদের গৃহপালিত পশুপাখী। চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। বানভাসীদের অনেকেই গবাদি পশুসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের কাঁচা -পাঁকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বানভাসীদের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনো খাবারের এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে বন্যা কবলিত মানুষ। সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের মিলপাড়া এলাকার আব্দুল মতিন বলেন, পানি হু হু করে বাড়ছে। ঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। চিন্তা ভাবনা করছি উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়ার। সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, আমার ইউনিয়নের অনেক চর ও দ্বীপ চর তলিয়ে গেছে। অনেক কষ্টে বসবাস করছে চরের মানুষ। এছাড়াও কুড়িগ্রাম- যাত্রাপুর সড়কের দুটি স্থানে পানি ওঠায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ইউনিয়নে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি আরও ৪৮ ঘন্টা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্রের পানি তিনটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যন্য নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, এখন পর্যন্ত বানভাসীদের জন্য ৯ উপজেলায় ২৮২ মেট্রিক টন চাল ও ২১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মজুত আছে ৩৯৫ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা । ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার। যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, সরকারের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন বন্যার্তদের পাশে থেকে দুর্ভোগ কমাতে সবধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে উলিপুর ও সদর উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন এবং বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জাকির হোসেন।
টাঙ্গাইলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি: টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে টাঙ্গাইলে যমুনাসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। গতকাল শুক্রবার সকালে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার, ঝিনাই নদীর পানি বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার ভুঞাপুর, কালিহাতী ও সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ভাঙনের পাশাপাশি তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। লোকালয়ে পানি ওঠায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ। সেই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে সাপের আতঙ্ক রয়েছে। বিশেষ করে রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে বেশি আতঙ্ক রয়েছে।
জামালপুরে সড়ক উপচে পানি ঢুকছে লোকালয়ে: জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সড়ক উপচে হু হু করে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। দ্রুত বন্যার কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, কুলকান্দি, পাথর্শী, সাপধরী, বেলগাছা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তিনটি, মেলান্দহ উপজেলার চারটি এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার দুইটিসহ মোট ১৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকায় যাতায়াতের জন্য স্থানীয় রাস্তাগুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ। বন্ধ আছে ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বন্যার পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে শুরু করেছে।
সিরাজগঞ্জে তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চল: সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত কয়েক দিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে যমুনার পানি ১৫ ও ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে সিরাজগঞ্জ শহর পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৮ ও কাজিপুর পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার সব নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। পাশাপাশি পানি বাড়ছে বিলেও। এতে প্রতিদিনই নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিতে পানি ওঠায় নষ্ট হচ্ছে কৃষকের শাকসবজি, বীজতলা ও রোপা আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল। পাশাপাশি জেলার কয়েকটি অংশে যমুনার পাড়ে রয়েছে তীব্র ভাঙন। গতকাল শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জিত কুমার সরকার জানান, এদিন সকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২৮ মিটার। গত ১২ ঘণ্টায় ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপদসীমা ১২ দশমিক ৯০ মিটার)। অপরদিকে কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ১২ মিটার। এই পয়েন্টে ১২ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপদসীমা ১৪.৮০ মিটার)। রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, পানি বাড়লেও এই মুহূর্তে ভারী বন্যার আশঙ্কা নেই। উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে পানি বাড়ছে। আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত পানি বাড়বে, তারপর কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও ভাঙন কবলিত এলাকায় ভাঙন রোধে জিও টিউব ফেলা হচ্ছে।
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: সিলেট প্রতিনিধি জানান, সিলেটে বেড়েছে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ডুবছে নতুন নতুন এলাকা। দিন যত যাচ্ছে, তৃতীয় দফায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে আট শতাধিক গ্রাম। সুরমার পানিতে দেড়শ এবং পাহাড়ি ঢলে তিনটি উপজেলার ২২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এমন তথ্য জানা গেছে জেলা প্রশাসনের প্রাত্যহিক বন্যার পরিস্থিতির প্রতিবেদন থেকে। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা সুরমা ও কুশিয়ারা নদী অনেক আগেই বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। ছয়টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় সিলেটের ১৩টি উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানি প্রথমেই আঘাত হানে। এ যাবত পাহাড়ি ঢলে এ তিন উপজেলার ২২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়ে আক্রান্ত হন ১ লাখ ৬২ হাজার ২৩৪ জন। আর সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি বাঁধ উপচে ও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গিয়ে ৮৭ গ্রাম প্লাবিত হয়ে লাখের অধিক মানুষ পানিবন্দি বলে দাবি উপজেলা প্রশাসনের। আর জেলা প্রশাসনের হিসাবে ৯০ সহস্রাধিক। আর কুশিয়ারা নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমার একাংশ, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার ৮ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬২ জন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

৬ জেলায় বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি ॥ গঙ্গা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদীর পানি সমতলে বাড়ছে নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে টাঙ্গাইল, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, সিলেট ও কুড়িগ্রামে
উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ