ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
চট্টগ্রামের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড

১৬ পাহাড়ে বড় ধসের আশঙ্কা

  • আপলোড সময় : ০২-০৭-২০২৪ ১০:০৮:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৭-২০২৪ ১১:৩১:৪৬ অপরাহ্ন
১৬ পাহাড়ে বড় ধসের আশঙ্কা
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডে ঝুঁকিতে থাকা সেই ১৬ পাহাড়ে ধস শুরু হয়েছেপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চিঠি চালাচালির মধ্য দিয়ে সাড়ে চার বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়গুলো৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে কাটা পাহাড়গুলোতে ধস শুরু হওয়ায় সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলো রয়েছে ঝুঁকিতেবৃষ্টি আরও বাড়লে বড় ধসের আশঙ্কা করছেন এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা
জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই চট্টগ্রামে পাহাড়গুলোর অনেক স্থানে ধসে পড়ছেদুটি স্থানের পাহাড় ধসের মাটি ফুটপাতসহ মূল সড়কে চলে এসেছেপাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যেও সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করছে অসংখ্য যানবাহনলিংক রোডের জঙ্গল সলিমপুর রাস্তার মাথায় কথা হয় স্থানীয় সাহাব উদ্দিনের সঙ্গেতিনি বলেন, আমরা বায়েজিদ হয়ে সলিমপুরে নিয়মিত যাতায়াত করিএখন রাস্তার পাশের পাহাড়গুলোতে ধস শুরু হয়েছেএকেকটি খাঁড়া পাহাড়ের উচ্চতা একশ ফুটেরও ওপরেবিশেষ করে বায়েজিদ থেকে ফৌজদারহাটগামী সড়ক অংশের লাগোয়া কয়েকটি পাহাড়ের মধ্য অংশ ধসে মাটি রাস্তায় নেমে এসেছেএতে পাহাড়ের ওপরের অংশে আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে
আরও জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনের জন্য প্রায় ২৭ বছর আগে মূল শহরের প্রবেশদ্বারের সঙ্গে সংযুক্ত করে বাইপাস সড়ক করার উদ্যোগ নেয় সিডিএপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট টোল রোডের মুখ থেকে বায়েজিদ বোস্তামি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয়প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৯২০ কাঠা জমি অধিগ্রহণ করা হয়দীর্ঘ সময় পরে মূল বাইপাস সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পরে ২০১৯ সালের ১২ মে পরিবেশ অধিদফতর প্রকল্পটির জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র দেয়
প্রকল্পের আওতায় একটি রেলওয়ে ওভারব্রিজসহ ছয়টি ব্রিজ এবং কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়প্রকল্পের ৬ কিমি রাস্তা নির্মাণের জন্য কাটা হয় ১৬টি পাহাড়তবে শহরের এক প্রান্তে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় পাহাড়গুলো কাটার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সমালোচনা ছিল নাপরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেপরোয়া পাহাড় কাটার তথ্য উঠে এলে নড়েচড়ে বসে পরিবেশ অধিদফতর২০২০ সালের শুরুতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানতে পারেন একেবারে নতুন রাস্তাটি নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদফতর থেকে আড়াই লাখ ঘনফুট পাহাড় কাটার অনুমোদন নেয়া হলেও সিডিএ পাহাড় কেটেছে ১০ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট
ওই ঘটনায় সিডিএকে নোটিশ দিয়ে ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি শুনানিতে ডাকে পরিবেশ অধিদফতরশুনানিতে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পাহাড় কেটে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, পাহাড়ের উপরিভাগের মাটি এবং ভূমির বাইন্ডিং ক্যাপাসিটি নষ্টসহ পরিবেশ-প্রতিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়
শুনানি শেষে সিডিএকে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৩ টাকা জরিমানা করেন অধিদফতরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) রুবিনা ফেরদৌসীএরপর ৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নকশা না মেনে পাহাড় কাটার অভিযোগ তোলেন সিডিএর বিরুদ্ধেপরে জরিমানার বিষয়টি নিয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আপিল করে সিডিএপাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ খাঁড়া পাহাড়গুলো নতুন করে কাটার জন্য ২০২০ সালের ২৩ মার্চ পরিবেশ অধিদফতরে নতুন করে আবেদন করে ৩ লাখ ৩২ হাজার ঘনমিটার পাহাড় কাটার অনুমতি চায় সিডিএ
সিডিএ ও পরিবেশ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পে আগে কাটা ১৬টি পাহাড় ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে কাটার জন্য ২০২০ সালে সিডিএ নতুন করে প্রস্তাবনা দিলেও তা না করে দেয় পরিবেশ অধিদফতরপরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুমোদন চাওয়া হলেও ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে পাহাড় কাটার অনুমতি মেলেনিএরপর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো কাটা ও সংরক্ষণ কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতসহ প্রতিবেদন চায় পরিবেশ অধিদফতরতখন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে প্রকল্পটির পরিচালক ও চুয়েটের দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়কমিটির সদস্য বুয়েটের দুই শিক্ষক ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন
পরবর্তীসময়ে পরামর্শকসহ পুরো কাজের জন্য সিডিএকে আর্থিক প্রস্তাবনা দেয় চুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিমতবে চুয়েটের ওই বিশেষজ্ঞ টিমের এ ধরনের কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় নতুন করে বিএসআরএম-মেগাফেরি জেভি নামের আরেকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেয় সিডিএপরে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়তারা প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ পাহাড় ৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে কাটার পরামর্শ দেয়এরপর পরামর্শকের প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় সিডিএ
পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ মে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আপিল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. ফারহিনা আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বোর্ডে সিডিএ পাহাড় কাটার মামলাটি শুনানি হয়শুনানি শেষে আগের ১০ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৩ টাকা জরিমানা কমিয়ে ৫ কোটি টাকা জরিমানা পুননির্ধারণ করে আপিল বোর্ডআপিল বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক পাহাড়গুলো কাটা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয় সিডিএ
সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ২০২০ সাল থেকে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে কাটা পাহাড়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেআমরা এখন পাহাড়গুলো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাটার পদক্ষেপ নেবোএরই মধ্যে পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর যে জরিমানা করেছে, সেটির বিষয়ে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে
বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড প্রকল্পের পরিচালক আসাদ বিন আনোয়ার বলেন, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের ১৬ পাহাড় মানসম্মতভাবে কাটার বিষয়ে আমরা এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনসহ ড্রয়িং ডিজাইন সহকারে আমাদের প্রস্তাবনা পরিবেশ অধিদফতরে পাঠিয়েছিবর্তমানে আমাদের প্রস্তাবনাটি অনুমোদন ও নির্দেশনার জন্য পরিবেশ অধিদফতর হয়ে বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স