ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
গণভোট নিয়ে ফ্যাসিবাদীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে-আলী রীয়াজ রাজনৈতিক ও নির্বাচনি পরিবেশ কলুষিত হয়ে পড়েছে : বদিউল আলম মজুমদার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে খুন হদিস নেই জেল পালানো শত শত কারাবন্দির মাসে সাড়ে ৩ লাখ এনআইডির তথ্য বিক্রিতে আয় ১১ কোটি টাকা নীতিমালা, মূল্যবোধের কথা বলে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় : ড. দেবপ্রিয় পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম নির্দিষ্ট দলের পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের ইইউতে তৈরি পোশাকের বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের অবরোধে জনজীবনে নাভিশ্বাস এগারো দলীয় জোটে অসন্তোষ চরমে আবারও শৈত্যপ্রবাহের কবলে দেশ, বাড়ছে শীতের তীব্রতা খাগড়াছড়িতে ২০৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৬৩ নোয়াখালীতে ২৫০০ কেজি জাটকা জব্দ, আটক ৬ লাইটার জাহাজের সংকট নিরসনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আজ এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল হ্যাঁ ভোটে কী পাবেন, না ভোটে কী হারাবেন জানাবে সরকার এলপিজি গ্যাসের দখলে জ্বালানি বাজার অপারেশন ডেভিল হান্টে রাজধানীতে ৬৭ জন গ্রেফতার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু

শিক্ষার্থীদের অবরোধে জনজীবনে নাভিশ্বাস

  • আপলোড সময় : ১৫-০১-২০২৬ ১১:২৫:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০১-২০২৬ ১১:২৫:৩৩ অপরাহ্ন
শিক্ষার্থীদের অবরোধে জনজীবনে নাভিশ্বাস
* যার যেখানে খুশি রাস্তা আটকাচ্ছে, নগরবাসির জীবনে নেমে এসেছে কালো ছায়া
* দ্রুত অধ্যাদেশ না হলে ‘মার্চ টু যমুনা’র হুঁশিয়ারি শিক্ষার্থীদের
* ১৭ মাসে ঢাকা ও আশেপাশে সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৬০৪টি

রাজধানীর প্রধান সড়ক অবরোধ করে মানুষের ভোগান্তি তৈরি করা ছাড়া যেন দাবি আদায়ের বিকল্প কোনো পথ নেই। প্রতিদিনই রাজধানীর কোথাও না কোথাও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামছে কোনো না কোনো পক্ষ। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। সর্বশেষ প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ জারির দাবিতে টানা দুইদিন যাবত রাজপথ দখল করে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগর বাসির জনজীবন। একইসঙ্গে মিরপুর সড়কসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যা চরম জনভোগান্তির সৃষ্টি করেছে এবং ভুক্তভোগি অনেকের জীবনে নেমে এসেছে কালো মেঘের ছায়া। তবে দুর্ভোগ আর ভোগান্তির এই শহরে; সড়ক অবরোধের যন্ত্রণা আর মানতে চান না সাধারণ মানুষ। তাদের কথা, বৃহত্তর কোন স্বার্থে আন্দোলন-মিছিল-সভা সমাবেশ ঠিক আছে, কিন্তু প্রতিদিনই যেভাবে দাবি আদায় সড়ক দখল করা হচ্ছে, তাতে যানজট তৈরি হচ্ছে, মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে পরিহবন যাত্রীদের একটাই জিজ্ঞাসা, তাদের কি দোষ, কেন রোজ রোজ এমন ভোগান্তি। তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ১৭ মাসে ঢাকা ও আশেপাশে সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৬০৪টি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থেকে বেরিয়ে যাওয়া সাত কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি না হলে মার্চ টু যমুনা কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে অবরোধকালীন সাত কলেজের পক্ষে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী জিয়াউর রহমান এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আমাদের তিন জায়গায় অবরোধ চলছে। বুধবারও আমরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যদি অধ্যাদেশ জারি না করা হয়, তাহলে মার্চ টু যমুনা কর্মসূচি দেবো। কারণ অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করেছে। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বের হন। ১২টা ৪০ মিনিটে তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। বিক্ষোভে অংশ নেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’ এবং ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’-এ ধরনের স্লোগান দেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ জারির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর দুটি পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সায়েন্স ল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড়ের মতো ব্যস্ততম এলাকার সড়ক দখলে নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি আদায়ে স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ উত্তাল করে রাখলেও, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ নগরবাসী। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মাইলের পর মাইল হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের ফলে মিরপুর সড়কসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যা চরম জনভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। গাড়ি না পেয়ে তারা হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছে।  টেকনিক্যাল মোড়ে অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ। শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আলম নামে এক অভিভাবক। তিনি বলেন, এইভাবে একটা দেশ চলতে পাওে না। যে যেভাবে পারছেন দাবি আদায়ে সড়ক দখল কওে নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সাভার থেকে এসেছেন মো. হানিফ। তিনি গুলিস্তান যাবেন। কিন্তু রাস্তা অবরোধ করায় সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আটকে পড়েন। তিনি বলেন, আর কত দাবি আদায় করবে। যার যেখানে খুশি আটকাচ্ছে। জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেল। কেউ যেন দেখার নেই। দেশে কোনো সরকার আছে কি না। যদি থাকে, মানুষের ভোগান্তি লাঘবের জন্য আপনারা উদ্যোগ নিন, এটাই অনুরোধ। নীলাচল বাসের চালক শেখ ইব্রাহিম বলেন, পুলিশ মাজার রোড দিয়ে ডাইভারশন দিচ্ছে। তবে সেই পর্যন্ত আসতেই অনেক সময় লাগছে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা সাভার, মানিকগঞ্জের গাড়িগুলো গাবতলী বা মাজার রোডেই ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে যেসব যাত্রীদের শহরের ভেতরে যাওয়ার কথা ছিল তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঢাকা আজিমপুরের বাসিন্দা সৈয়দ আবিদ হুসাইন সামি একজন গণমাধ্যমকর্মী। বৃহস্পতিবার অফিশিয়াল কাজে তার ঢাকার বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। স্বাভাবিক সময়ে বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার সময় হিসেব করেই বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি বাধে শাহবাগ মোড়ে এসে। তার ভাষ্যমতে, আড়াইঘণ্টা কেবল ওই মোড়েই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কারণ, সড়ক অবরোধ। এতে পুরো শহর প্রায় অচল হয়ে পড়ে। স্থবির হয়ে যায় জনজীবন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে সড়কে আন্দোলনকারীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় আটকে পড়া বাস ও মোটরসাইকেল চালকসহ ভুক্তভোগী যাত্রীদের। আমি নিজে অন্তত ২০টা অ্যাম্বুলেন্স দেখেছি, যেগুলো সাইরেন বাজাচ্ছে কিন্তু কোনোদিকে যাওয়ার উপায় নেই।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দাবি আদায়ের জন্য সড়ক অবরোধের ঘটনা নতুন নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই প্রবণতা অনেক বেশি দেখা গেছে। এক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতার দিকেই আঙুল তুলছেন তারা। বলছেন, নিজেদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন উপায়ে সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও সড়কে নামার আগ পর্যন্ত সেদিকে কর্ণপাত করে না কর্তৃপক্ষ। তবে টানা দুইদিনের তাদের অবরোধে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কোন শেষ ছিলো না। কেউ গাড়িতে ঘুমিয়েছেন কেউ বা পায়ে হেঁটেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছেন। অনেক অসুস্থ রোগীকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। মানুষ বলছেন প্রতিদিনই কোন না কোন পক্ষের সড়ক অবরোধের ঘটনা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। যারা আন্দোলন করছেন তাদের এবং সরকারের দুই পক্ষেরই বিষয়টির দিকে নজর দেয়া উচিত। তবে, যারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন তাদের দাবি এই দুর্ভোগের দায় সরকারের তাদের নয়। তারা নিয়ম মেনেই তাদের দাবির কথা জানালেও তাতে কর্ণপাত করে না সরকার। সড়ক অবরোধ করলে টনক নড়ে, তখন দাবি সম্পর্কে কথা বলে সরকার। ফলে সরকারের টনক নড়াতেই সড়কে নেমে আসা ছাড়া তাদের সামনে আর কোন বিকল্প থাকে না। আর সাধারণ মানুষ বলছেন, ভোগান্তির এই শহরে এমনিতেই মানুষের দুর্ভোগের কোনো অন্ত নেই। তবে রাজপথ বন্ধ করে দাবি আদায়ের কর্মসূচির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ জানায়, ফার্মগেট এবং সায়েন্সল্যাবে সড়ক বন্ধ থাকার কারণে রমনা জোনের বাংলামটর, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, হেয়ার রোড এবং কাকরাইল মসজিদ ক্রসিংয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ডাইভারসন দিয়ে গাড়ির গতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলমান রয়েছে। অবরোধের কারণে রাজধানীর বিজয় সরণি, গাবতলী, মিরপুর রোড এবং নিউমার্কেট এলাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বা রিকশায় বসে থাকা যাত্রীদের অনেকে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে গুলশান জোনের এডিসি জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ফার্মগেট এলাকায় শিক্ষার্থীরা কিছুক্ষণ অবরোধ করার পর বর্তমানে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে অন্যান্য স্থানে এখনো উত্তেজনা ও অবরোধ বিরাজ করছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী একটি বিশাল মিছিল নিয়ে বের হন। মিছিলটি নীলক্ষেত হয়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয়। এ সময় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’ এমন সব স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, আমাদের দাবি স্পষ্ট, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারি করতে হবে। আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ মানব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না। কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারুক হাসান বলেন, আমাদের একটাই দাবি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। আর কোনো সময় দিতে চাই না। শিক্ষার্থীদের এই অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। সাভার থেকে গুলিস্তান যাওয়ার পথে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আটকে পড়া যাত্রী রফিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যার যেখানে খুশি রাস্তা আটকাচ্ছে। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। দেখার কেউ নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত মানুষের এই ভোগান্তি নিরসনে ব্যবস্থা নিন। সায়েন্স ল্যাব ছাড়াও মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবারও একই দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। এতে ঢাকার সড়কে মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সাত কলেজের সংকট নিরসনে ২০১৭ সাল থেকেই নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে অনড়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খসড়াটি দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হবে। নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই অনেকটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তথা ‘অধ্যাদেশ’ দাবি করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৭ মাসে দাবি দাওয়া আদায়ে সড়কে রেকর্ড করেছে আন্দোলনকারী। এই সরকার শপথ নেয়ার পর থেকে গত এক বছর ৫ মাসে ঢাকা ও এর আশেপাশে এক হাজার ৬০৪টি সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তবে নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসাধারণের অনুপাতে ঢাকায় গড়ে ওঠেনি যথেষ্ট পরিকল্পিত সড়ক। ফলে দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি পরিস্থিতির কারণে একটি সড়ক বন্ধ থাকলে তার প্রভাব পড়ে পুরো শহরে। কথা হয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মোঃ হাদিউজ্জামান এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ঢাকায় যে পরিমাণ জনসংখ্যা রয়েছে পুরো বাংলাদেশের হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। অন্যদিকে আয়তনের দিক থেকে ঢাকা বাংলাদেশের মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ। তার ওপর গণপরিবহণের ব্যবস্থাও খুব ভালোভাবে গড়ে ওঠেনি। ‘সড়কনির্ভর’ এই শহরে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সড়ক ‘গ্রিড প্যাটার্নে’ থাকা উচিত ছিল বলে জানান তিনি। অর্থাৎ নানা কারণে সড়ক যদি বন্ধ থাকে তাহলে বিকল্প দিক থাকলে প্যারালাল আরেকটা রাস্তা ব্যবহার করতে পারে জনগণ। কিন্তু ঢাকায় সড়কগুলো সেভাবে নির্মাণ করা হয়নি। আবার ঢাকায় সড়ক আছে মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ। তার ওপর বিক্রেতা, পার্কিংয়ের মতো কারণে মোটাদাগে ব্যবহারযোগ্য সড়ক বাকি থাকে পাঁচ শতাংশেরও কম। ফলে কেউ যদি ঢাকার একদিকের সড়ক বন্ধ করে দেয় পুরো শহর থমকে ‘শক ওয়েভ’ তৈরি করে অর্থাৎ কোথাও আটকে গেলে আর কোনো বিকল্প সড়ক খুঁজে পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, কোনো সমস্যা নিয়ে, কোনো দাবি দাওয়া নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আলোচনা কিংবা বিতর্ক কিংবা সরকারের সাথে একটা মতবিনিময় বা যুক্তিযুক্তভাবে অগ্রসর হওয়া-এই প্রক্রিয়াটাই বাংলাদেশে ঠিকমতো দাঁড়ায়নি। স্মারকলিপি, চিঠি বা লিখিত উপায়ে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষের দিক থেকে কোনো জবাব, এমনকি গণমাধ্যমের মনোযোগ পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে একই বিষয়ে যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, তখন তা যেমন খবরের শিরোনাম হয়, তেমনি নজরেও আসে সরকারের। ফলে এই প্রবণতা না বদলালে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হতে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স