ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
নিবন্ধন সনদবিহীন শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র কড়া বার্তা প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসে তোলপাড় শেয়ারবাজার গতিহীন দ্বিগুণ দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর মহাসচিব খায়রুল নির্বাচিত ঢাকায় নতুন মার্কিন দূত মব সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে রক্ষা কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে যুবক আহত, সড়ক অবরোধ দিনাজপুরে নদী থেকে ২ যুবকের লাশ উদ্ধার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে নির্বাচনি জরিপে বিএনপি জামায়াতের হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের আভাস রাজস্ব সংগ্রহে এনবিআরের চ্যালেঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে পলককে ডিম নিক্ষেপ ইনকিলাব মঞ্চের ফরিদপুরে শ্রমিকবাহী পিকআপে ট্রেনের ধাক্কায় দুই ভাইসহ নিহত ৩ শ্যামনগরে আমন ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলসহ ৫ দফা দাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতেই হবে-রেজাউল করীম হলফনামায় ‘অপ্রদর্শিত’ সম্পদের মালিকদের শাসক হিসেবে চান না দুদক চেয়ারম্যান কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না সরকার-প্রেস সচিব ভারতের সঙ্গে ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি-বাণিজ্য উপদেষ্টা

রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে টালমাটাল ইরান

  • আপলোড সময় : ১১-০১-২০২৬ ১০:৪১:০৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০১-২০২৬ ১০:৪১:০৩ অপরাহ্ন
রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে টালমাটাল ইরান
* বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৬৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯২ জনে: আইএইচআর
* সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহতের দাবি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের
* ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে
* ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন তালিকাভুক্ত করার আহ্বান ইউরোপীয় ইউনিয়নের
* ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে গড়ে তোলা হয়েছে ইসরাইলের বিশাল নেটওয়ার্ক
* হাসপাতালে লাশের স্তূপ, আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা


ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন চরম সহিংসতার রূপ নিয়েছে। সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহতের দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের বাধায় দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে বিদেশি-সমর্থিত দাঙ্গা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংঘর্ষে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এরইমধ্যে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে ইরানে।
ইরানে বর্তমান অস্থিরতা উসকে দিতে এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ইসরাইল একটি সুসংগঠিত ও বিশাল ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্থা সিটিজেন ল্যাব এবং ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কার ও হারেৎজের যৌথ অনুসন্ধানে এই গোপন অভিযানের বিস্তারিত উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইল সরকারের পরোক্ষ অর্থায়নে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারস্য ভাষায় এই প্রচার চালানো হচ্ছে। অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো ইরানিদের মধ্যে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন তৈরি করা এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। গত বছর তেহরানের এভিন কারাগারে ইসরাইলি হামলার সময় এই নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। হামলার খবর ইরানি গণমাধ্যমে আসার আগেই ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা ‘অ্যাভাটার’ ব্যবহার করে বিস্ফোরণের খবর এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সাধারণ মানুষকে ব্যাংক লুট বা জেল ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করার মতো উসকানিমূলক পরামর্শও দেওয়া হয়েছে এই নেটওয়ার্ক থেকে। ২০২৩ সালে রেজা পাহলভির ইসরাইল সফর এই প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করে। ইসরাইলের বর্তমান বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তাকে ‘ইরানের যুবরাজ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। সিটিজেন ল্যাব তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই প্রচারণার সময়সূচির সঙ্গে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের স্পষ্ট মিল পাওয়া গেছে, যা নির্দেশ করে যে এটি সম্ভবত ইসরাইল সরকার বা তাদের নিযুক্ত কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেজা পাহলভি বিদেশে গণতন্ত্রের কথা বললেও ইরানিদের একাংশ তাকে তার বাবার স্বৈরাচারী শাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দেখে। তেল-আবিবভিত্তিক গবেষক রাজ জিম্মতের মতে, ইসরাইলের এই প্রকাশ্য সমর্থন উল্টো খামেনি সরকারের সেই বয়ানকেই শক্তিশালী করছে যে বিদেশিরা ইরানকে আবার তাদের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর উচিত এ ধরনের অনৈতিক ডিজিটাল ক্যাম্পেইন থেকে বিরত থাকা, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলে। তবে দেশটির শহরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে শত শত মানুষ হতাহত হচ্ছেন। বিক্ষোভে একের পর এক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় এত মানুষ হতাহত হয়েছেন যে অনেক হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ হাসপাতালগুলোর কর্মীদের। ইরানের তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলোতে সংঘাত-সহিংসতায় আহত ও নিহতদের ভিড় সামলাতে সমস্যায় পড়ছে। হতাহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। তবে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সঠিক তথ্যের আদান-প্রদানে অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ২০২২ সালে তেহরানে পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে হওয়া বিক্ষোভের পর চলমান আন্দোলনকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ বিক্ষোভকারীর মাথায় এবং বুকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে। মর্গে জায়গা না থাকায় বহু মরদেহ হাসপাতালের প্রার্থনা কক্ষে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। নিহতদের একটি বড় অংশই ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ। উত্তর ইরানের রাশৎ শহরের একটি হাসপাতালেই এক রাতে অন্তত ৭০টি মরদেহ নিয়ে আসার খবর পাওয়া গেছে। তবে নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সর্বশেষ বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৬৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯২ জনে। তারমধ্যে সংঘর্ষে ইরানের একাধিক স্থানে শতাধিক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছে বলে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, ইরান সরকার এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের উস্কানিকে দায়ী করলেও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ‘স্বাধীনতাকামী’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকায় সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবুও বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা রাজপথ ছাড়েননি। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই সরকার পিছু হটবে না। সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা ও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরানের আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। সংঘর্ষে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানো হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আল জাজিরা জানায়, ইসফাহান প্রদেশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর বিশেষ ইউনিটের কমান্ডার জানান, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা দমনের অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর আরও আট সদস্য নিহত হন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে শতাধিক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইসফাহান প্রদেশেই ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গভর্নর। রোববার বক্তব্য রাখার সময় আলী আহমাদি নামের ওই গভর্নর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সোমবার নিহত কর্মীদের জন্য একটি জানাজা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আহমাদি নিশ্চিত করেছেন যে, সশস্ত্র দাঙ্গায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে দুই মাস বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাঙ্গায় ইসফাহানের বিভিন্ন এলাকায় ১০টি মসজিদে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাদেশিক শহীদ ফাউন্ডেশন বিভাগের মহাপরিচালক ইব্রাহিম বায়ানির মতে, পার্শ্ববর্তী ফার্স প্রদেশে দাঙ্গায় কমপক্ষে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়াও পুলিশ স্পেশাল ইউনিট কমান্ডার জেনারেল মাসুদ মোদাক্ক রবিবার ঘোষণা করেন যে, দাঙ্গায় তার কমান্ডের আটজন সদস্য নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার তাদের জানাজা শোভাযাত্রার পাশাপাশি দেশব্যাপী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে বিদেশি এজেন্টদের মদদপুষ্ট সশস্ত্র হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো হবে। তবে ভয়াবহ এই দাঙ্গায় নিহত নিরাপত্তা বাহিনী বা বেসামরিক নাগরিকদের মোট সংখ্যা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।
দেশজুড়ে চিকিৎসা ও সাহায্য কেন্দ্রগুলোতে বেশ কিছু হামলার খবর পাওয়া গেছে। উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশে, একটি হামলায় একজন স্বেচ্ছাসেবক রেড ক্রিসেন্ট কর্মী নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে আরও পাঁচজন রেড ক্রিসেন্ট কর্মী আহত হয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বৈধ এবং এর সমাধান করা হবে, তবে সহিংসতা এবং নাশকতা সহ্য করা হবে না। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাঙ্গাবাজরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়নের বিষয়ে জনসাধারণের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়েছে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং তেল রফতানিকে লক্ষ্য করে একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সেল ভেঙে ফেলা এবং বিদেশি-সংযুক্ত কর্মীদের গ্রেফতারের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে। তেহরানের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, অনেক তরুণের মাথায় এবং বুকে সরাসরি গুলি লেগেছে। তেহরানের আরেকটি হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, শরীরে গুলি এবং রাবার বুলেটের ক্ষত নিয়ে আসা বহু মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছেন তারা। মধ্য ইরানের কাশান শহরের একজন চিকিৎসক বলেন, শর্টগানের গুলির আঘাতে বিক্ষোভকারীদের অনেকের চোখ নষ্ট হতে বসেছে। তেহরানের একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক জানান, হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। ওই চিকিৎসক বলেন, আমি একজনকে দেখেছি, যার চোখে গুলি লেগে মাথার পেছন থেকে গুলি বেরিয়ে গিয়েছে। তবে ইরান অভিযোগ করেছে, দেশটির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে ‘সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক ভাঙচুর’ এর রূপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অভিযোগের জবাবে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইরান এখন ‘স্বাধীনতা’ চায়, হয়ত অন্য যেকােন সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া গত দুই সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৬৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলমান এই সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ।রোববার নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতাসীন সরকার ও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে ইরানে বিক্ষোভে ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে নতুন হিসাবে সেই সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাইরের শক্তির সমর্থনে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের ভেতরে দাঙ্গা চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগে করে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রোববার কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের জাতীয় পুলিশ। তবে ইরান হিউম্যান রাইটস বলেছে, আমরা বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও জনগণের দাবি নিয়ে কথা বলবেন। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্ষমতাসীন সরকারের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের উপায় ও পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, জাতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে এক কথোপকথনে প্রেসিডেন্ট ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কারে সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও জনগণের দাবির জবাবে সরকারের অবস্থান নিয়েও আলোচনা করেছেন। সাক্ষাৎকারটি রোববার আরও পরে সম্প্রচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ব্যাপক কঠোর অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে ‘‘সন্ত্রাসী সংগঠন’’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সার বলেছেন, সফররত জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্টকে তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার এখনই সময়।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স