দেশজুড়েই বর্তমানে বিরাজ করছে তীব্র শীত। অনেক জেলায় বয়ে চলেছে শৈত্যপ্রবাহ। আর তাতে জনজীবন বিপর্যয়ের পাশাপাশি রবিশস্যের আবাদও ক্ষতির শঙ্কায়। ইতিমধ্যে দেশেল বিভিন্ন এলাকায় তীব্র শীতে বিবর্ণ হতে শুরু করেছেবোরো ধানের বীজতলা। তাছাড়া সরিষা, আলু, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ নানা রবিশস্যই এখন মাঠে মাঠে।কিন্তু এখন কুয়াশায় সূর্যের দেখা মিলছে না। আর রাতের শিশির আর দিনের ঘন কুয়াশায় ঝুঁকিতে পড়েছে ওসব ফসল। তবে বোরো ধানের বীজতলা ও আলুক্ষেতেসবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ফসলে রোগবালাই দীর্ঘ সময় কম তাপমাত্রা ও কুয়াশা জমে থাকলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাতে ফসলের ফলন কমার পাশাপাশি গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এবারের শীত ওই আশঙ্কাকে তীব্র করছে।টানা শীত এবংঘন কুয়াশাকৃষিতে হুমকি বাড়াচ্ছে। এই মৌসুমে ২ দশমিক ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ৪ দশমিক ৬৭ লাখ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৮৭ শতাংশ জমিতে রোপণ শেষ হয়েছে। কিন্তু তীব্র শীতে বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের বীজতলা ইতিমধ্যে বিবর্ণ হতে শুরু করেছে। ধানের চারা ঠিকমতো গজাচ্ছে না। কোথাও চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, কোথাও পচন ধরছে।
সূত্র জানায়, শীতে বোরো বীজতলা নষ্ট হলে কৃষকের খরচ বাড়বে। কারণ অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজতলায় চারা পোড়া রোগ ও থ্রিপস পোকার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বীজতলায় ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা জরুরি। তাতে মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি সুষম সার ব্যবস্থাপনায় চারার স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব। আর সূর্যের আলোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেআলুর উৎপাদনও। কারণ আলুর রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। টানা তিন দিন সূযের দেখা না পেলে আলুতে লেট ব্লাইট (নাবিধসা) রোগ দেখা দেয়। ওই রোগে আলুগাছ দ্রুত মরে যায়। তাছাড়া তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা শীতকালীন সবজি ও সরিষাতেওনেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আলু ও বোরোর বীজতলার জন্য এ ধরনের আবহাওয়া মোটেও অনুকূল নয়। বর্তমানে আলুতে টিউবার ফরমেশন চলছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে আক্রমণ হলে ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারেফলন।
এদিকে এ প্রসঙ্গে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিনও জানান, মাঠে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সারাদেশের কর্মকর্তাদের কৃষকের পাশে থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সব সময়ই প্রণোদনার ব্যবস্থা আছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
তীব্র শীতে ক্ষতির শঙ্কায় বোরো আলুসহ রবিশস্যের আবাদ
- আপলোড সময় : ১০-০১-২০২৬ ০৯:৫৪:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-০১-২০২৬ ০৯:৫৪:০৬ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার