ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ , ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সংক্রান্ত ৬৪৫ ঘটনার মধ্যে ৭১টি সাম্প্রদায়িক আজ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের ব্রিফ করবে ইসি ইসি নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে প্রত্যাশা বিএনপির রাজনৈতিক ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান নির্বাচনের আগেই বাড়ছে সহিংসতা ময়মনসিংহ ৩৯ সংসদীয় আসনে নিরাপত্তা দিবে ১২৬ প্লাটুন বিজিবি দ্বিগুণ দামে বিক্রি, প্রমাণ থাকবে তাই রসিদ দেন না বিক্রেতারা ফেস অব ওয়ালটন এসি হলেন ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ নীলফামারীতে সেচ খাল ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি প্লাবিত ফরিদপুরে গভীর রাতে পেট্রল পাম্পে ডাকাতি মানিকগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আইসিইউতে থেকে কেবিনে স্থানান্তর সাভারে কমিউনিটি সেন্টারের ৫ খুনেই জড়িত সম্রাট দাবি পুলিশের গণভোটের প্রচারণায় যারা প্রশ্ন তুলেছেন তারা মূলত পলাতক শক্তি -আদিলুর রহমান খান আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া ৩৮ টুকরা কঙ্কালের রহস্য উদঘাটন বাড্ডায় সড়ক অবরোধ আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন অটোরিকশা চালকরা হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল নন-লাইফ বীমাকারী প্রথম স্থানে প্রগতি ইন্সরেন্স লিমিটেড আগাম বন্যায় ফসলহানির শঙ্কা নিয়ে বোরো আবাদ শুরু কৃষকের পুঁজিবাজারে লেনদেন ২ মাসে সর্বোচ্চ

ধানের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

  • আপলোড সময় : ১০-১২-২০২৫ ১২:৫১:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-১২-২০২৫ ১২:৫১:৫৯ পূর্বাহ্ন
ধানের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় কৃষক
নতুন আমন ধান বাজারে উঠতে না উঠতেই কমতে শুরু করেছে ধানের দাম। ইতিমধ্যে গত বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি ধানের দাম প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে। আর এ দামে কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে বড় লোকসানের শঙ্কায় কৃষকরা। এ বছর বড় দুর্যোগ না হওয়ায় সারাদেশে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রকারভেদে প্রতি মণ ধান ৯৫০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে ইতোমধ্যে সারা দেশে কাটা শেষ হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জমির ধান। এবার ২০২৫-২৬ মৌসুমে সারা দেশে ৫৭ লাখ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি ৭৮ লাখ মেট্টিক টন। তার মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে। দিনাজপুর, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা, নরসিংদী জেলায় আমন চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কৃষিপণ্যের বাম্পার ফলন ফলিয়ে লোকসানে দিশেহারা এদেশের কৃষক। বতমান সরকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থের তুলনায় কিছুই দেখছে না কৃষকদের স্বার্থ। কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগী বা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে লাভ। ফলে কৃষকের হতাশা বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ার শঙ্কা বাড়ছে। গত বছর দেশে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়েছে। চালের দামের ক্ষেত্রে গত এক বছর ধরে এমন হচ্ছে। বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পরও চালের দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। যা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি। কিন্তু সরকার ওই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি। বরং উল্টো ব্যবসায়ীরা সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এমন দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এর পেছনে সরকারেরও এক শ্রেণির আমলা ও কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। কারণ গত আমন ও বোরো মৌসুমে দেশে রেকর্ড চাল উৎপাদন হয়েছে। ফলে গত অর্থবছরে দেশে চাল আমদানির প্রয়োজন পড়েনি। দেশের সরকারি গুদামেও চালের মজুদ ছিল ১৪ লাখ টনের বেশি। এমন অবস্থায় চলতি আমনেরও বাম্পার ফলন হলেও কার স্বার্থে দেশে চাল আমদানি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে দেশে চাল মজুদ থাকার পরও অসময়ে চাল আমদানি। বর্তমান সরকার বাজার ব্যবস্থাপনায় একেবারেই ব্যর্থ। দেশে চালের দাম যখন বেশি ছিল তখন দেরিতে করা হয়েছে আমদানি। আর এখন ফসল কাটার সময় আমদানি শুরু করে বাজারকে অস্থির করা হয়েছে। যা কৃত্রিমভাবে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছে। সরকারের সীমিত ধান কেনার পরিকল্পনা দিতে পারছে না কৃষকদের কোনো সুরক্ষা। বরং ব্যবসায়ীরা কম দামে ধান কিনে মজুত করছে। বর্তমানে কৃষকদের লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে আমদানি বন্ধ করা জরুরি এবং অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ধান কাটার মৌসুমে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে নীতিমালাতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
সূত্র আরো জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতা, অনিশ্চিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অব্যবস্থাপনা, যন্ত্রায়ণের ধীরগতি ও ফসলের স্বল্প বৈচিত্র্যের বিরূপ প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি খাতে উৎপাদন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তথ্যমতে, ২০৩০-৫০ সালের মধ্যে ধানের উৎপাদন সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে। যা খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। জলবায়ুর মারাত্মক পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাপমাত্রা প্রতি বছর বাড়ছে, মৌসুমি বৃষ্টিপাত কখনো অতিরিক্ত, কখনোবা সম্পূর্ণ অনিয়মিত। তাতে ধান, গম, ভুট্টাসহ প্রধান খাদ্যশস্যের জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে। মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের ওপরও তাপমাত্রার সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহের কারণে কৃষি শ্রমঘণ্টা কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে উৎপাদনশীলতা কমছে। জমি প্রস্তুত করতে সময় বেশি লাগছে এবং শ্রম ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। যার প্রভাব শুধু কৃষক নয়, ধাক্কা লাগছে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শ্রমিক উৎপাদন কমে গেলে ক্রয়ক্ষমতা, বাজারে লেনদেন, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ওই সঙ্গে বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কৃষিকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলছে। এমন অবস্থায় কৃষক যদি তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পায় তাহলে তারা এ পেশা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে। তাহলে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে।
এদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানান, কৃষকের দাম এবং ভোক্তার জন্য বাজারের স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। যদি চাল আমদানি বন্ধ করি তাহলে হয়তো দেখা যাবে চালের দাম আগামীকাল থেকে ৮০ টাকা কেজি হবে। তবে কৃষকরা চাইলে মানসম্মত ধান সরাসরি সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারেন।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স