ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
গণভোট নিয়ে ফ্যাসিবাদীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে-আলী রীয়াজ রাজনৈতিক ও নির্বাচনি পরিবেশ কলুষিত হয়ে পড়েছে : বদিউল আলম মজুমদার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে খুন হদিস নেই জেল পালানো শত শত কারাবন্দির মাসে সাড়ে ৩ লাখ এনআইডির তথ্য বিক্রিতে আয় ১১ কোটি টাকা নীতিমালা, মূল্যবোধের কথা বলে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় : ড. দেবপ্রিয় পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম নির্দিষ্ট দলের পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের ইইউতে তৈরি পোশাকের বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের অবরোধে জনজীবনে নাভিশ্বাস এগারো দলীয় জোটে অসন্তোষ চরমে আবারও শৈত্যপ্রবাহের কবলে দেশ, বাড়ছে শীতের তীব্রতা খাগড়াছড়িতে ২০৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৬৩ নোয়াখালীতে ২৫০০ কেজি জাটকা জব্দ, আটক ৬ লাইটার জাহাজের সংকট নিরসনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আজ এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল হ্যাঁ ভোটে কী পাবেন, না ভোটে কী হারাবেন জানাবে সরকার এলপিজি গ্যাসের দখলে জ্বালানি বাজার অপারেশন ডেভিল হান্টে রাজধানীতে ৬৭ জন গ্রেফতার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু
নতুন গৃহকর্মীকে সন্দেহ করছে পুলিশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

  • আপলোড সময় : ০৯-১২-২০২৫ ১২:৩২:৪০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-১২-২০২৫ ১২:৩২:৪০ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজেদের বাসায় ছুরিকাঘাতে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় সদ্য নিয়োগ পাওয়া এক তরুণী গৃহকর্মীকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে পুলিশ। পুলিশ গণমাধ্যমকে বলছে, আয়েশা নামের ওই তরুণী সোমবার সকালে বোরকা পরে ওই বাসায় ঢোকেন এবং দেড় ঘণ্টা পর নাফিসার স্কুলড্রেস পরে সেখান থেকে বের হয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যেই মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিপরীত পাশের একটি আবাসিক ভবনের সপ্তম তলার ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন নিহত লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)। নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং লায়লা আফরোজ ছিলেন গৃহিণী। নাফিসার বাবা এ জেড আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে প্রায় ১৩ বছর ধরে একই ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছিলেন তারা। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে।
গতকাল সোমবার প্রতিদিনের মতো সকাল ৭টার দিকে স্কুল যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন আজিজুল। বেলা ১১টার দিকে বাসায় ফিরে এসে তিনি দরজায় নক করেও সাড়া পাননি। দরজা খোলা পেয়ে ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে ড্রইং রুমে মেয়ের রক্তাক্ত দেহ এবং পাশের ঘরে স্ত্রী লায়লা আফরোজের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। তিনি ধারণা করেছিলেন, হয়তো কেউ বেঁচে আছে তাই প্রতিবেশীদের সহায়তায় মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসক নাফিসাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ এসে লায়লা আফরোজের লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরে বাসায় প্রবেশ করেন আয়েশা এবং ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ওই পোশাকটি ছিল খুন হওয়া নাফিসার। বের হওয়ার সময় আয়েশার মুখে মাস্ক থাকায় নিরাপত্তারক্ষী তাকে চিনতে পারেননি। এরপরও নিরাপত্তারক্ষী তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে তিনি ‘৭বি’ ফ্ল্যাটে থাকেন বলে দ্রুত চলে যান। এ ফ্ল্যাটটিই আজিজুলের।
পুলিশ বলছে, বাসার ভেতরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে, মেঝে ও দেয়ালে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। আলমারি ও ভ্যানিটি ব্যাগ তছনছ অবস্থায় হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে বাসা থেকে কিছু খোয়া যেতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, হত্যাকারী ঘটনার পর বাসার বাথরুম ব্যবহার করেছেন বলে আলামত পাওয়া গেছে। নিরাপত্তারক্ষী খালেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তিনি জানান, চার দিন আগে কাজের সন্ধানে আসায় তরুণীকে ওই ফ্ল্যাটে পাঠিয়েছিলেন। মেয়েটিকে তিনি আগে চিনতেন না। আজিজুল ইসলাম জানান, তাদের একজন গৃহকর্মীর প্রয়োজন ছিল। গেটে অনেকেই কাজের খোঁজে আসে তাই দারোয়ানকে জানিয়েছিলেন নতুন কাউকে এলে জানানোর জন্য। চার দিন আগে বোরকা পরা এক তরুণী এলে দারোয়ান তাকে বাসায় পাঠায়। লায়লা আফরোজ তাকে কাজ দেন এবং পরে জানান তার নাম আয়েশা। মেয়েটি বলেছিল তার গ্রামের বাড়ি রংপুর, জেনিভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকেন, বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছে এবং তার শরীরেও আগুনে পোড়ার পুরনো ক্ষত রয়েছে। অস্থায়ী গৃহকর্মী হওয়ায় তার কোনো কাগজপত্র রাখা হয়নি। কাজের প্রথম দুদিন ঠিকমতো এলেও রোববার সে আসে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। গতকাল সোমবার সকালে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তিনি বাসায় ঢোকেন এবং স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যান।
তবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মা ও মেয়েকে হত্যা করার পর মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে পালিয়ে যান ওই বাসার নতুন গৃহকর্মী। ঘটনা ঘটে শাহজাহান রোডের একটি বাসায়। পুলিশ জানিয়েছে, চার দিন আগে এ গৃহকর্মী বাসাটিতে কাজ শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর গৃহকর্মী নিজের নাম আয়েশা বলে পরিচয় দেন। তার বয়স আনুমানিক ২০ বছর এবং গ্রামের বাড়ি রংপুর। গৃহকর্মী আয়েশার পরিবার আগুনে মারা গেছে এবং তার শরীরে আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ঘটনার আগে-পরে ওই বাসায় একজনের আসা-যাওয়াই দেখা গেছে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আমরা একজনই দেখেছি, পরে দেখব আশেপাশে আরও কেউ ছিল কি না। পরে জানতে পারব তার সাথে আশেপাশে কেউ ছিল কি না। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি, সেসব যাচাই-বাছাই চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, হত্যার আগে পরে তার উপস্থিতি ও অ্যাকটিভিটিজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাব। লাশ দুটি সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, দুজনের শরীরেই একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স