সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টির মহাসচিব শওকত মাহমুদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটিতে আগামী বৃহস্পতিবার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দিয়েছেন। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র’র এই মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীসহ কয়েকজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ এ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে ডিবির একটি মাইক্রোবাসে শওকত মাহমুদকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার মূলনথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে থাকায় এদিন রিমান্ডের শুনানি না নিয়ে বৃহস্পিতবার রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করেন আদালত।
রিমান্ড আবেদনে যা বলা হয়, শওকত মাহমুদসহ আরও অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনায়েত করিম চৌধুরীর সঙ্গে পরস্পর যোগসাজসে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জন-নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এবং উচ্চপদস্থ লোকজন ও ব্যবসায়ীমহলের সঙ্গে গোপনে সভা-সমাবেশ, পরামর্শ করে বিভিন্ন স্থানে গণবিক্ষোভের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে যড়যন্ত্র, সহায়তা ও প্ররোচিত করার মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদের প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে মর্মে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কোনো রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী বা অন্য কোনো অনিবন্ধিত অথবা নিবন্ধিত কিন্তু রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে গোপনে সলাপরামর্শ করছে, সেই সকল তথ্য উদ্ঘাটন করার জন্য নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। তার জব্দ করা মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে শওকত মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার বিবরণীতে বলা হয়, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী। তিনি ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় যান ও ২০০৪ সালে আমেরিকান পাসপোর্ট পান। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে আসেন। মামলায় বলা হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোড এলাকায় প্রাডো গাড়িতে করে ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘুরতে থাকেন। তাকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তার গাড়ি থামায়। কেন এখানে ঘোরাঘুরি করছেন, জানতে চাইলে তিনি পুলিশকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এ জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার কাছে থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। এরপর মামলায় জাতীয় পার্টির রওশনপন্থী অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশীদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
রিমান্ড শুনানি বৃহস্পতিবার
সাংবাদিক শওকত মাহমুদ কারাগারে
- আপলোড সময় : ০৯-১২-২০২৫ ১২:১৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-১২-২০২৫ ১২:১৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার