গুরুত্বপূর্ণ জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে আইআরআই
বিএনপির চেয়ে দুই শতাংশ ভোট বেশি জামায়াত ও এনসিপির
* বিএনপি ৩০, জামায়াতে ইসলামী ২৬ এবং এনসিপির ভোট ৬ শতাংশ
* ড. ইউনূস সরকারের ওপর সন্তুষ্ট ৭০ শতাংশ মানুষ
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ হতে পারে। চূড়ান্ত তারিখ জানতে আর কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। এ নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে-তা নিয়ে সর্বশেষ জরিপে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই)। তাদের জরিপ মতে, এখনই নির্বাচন হলে ৩০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে, ২৬ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে এবং ৬ শতাংশ ভোটার জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেবে। তবে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান মাত্র ৪ শতাংশ। একইসঙ্গে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট বলে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) এ জরিপে উঠে এসেছে।
মার্কিন ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে রিপাবলিকান পার্টি-ঘনিষ্ঠ এ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জরিপটিতে দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় ৪ হাজার ৯৮৫ জন ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। রাঙ্গামাটি জেলার নমুনা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। জরিপ পরিচালনা করা হয় সিএপিআই পদ্ধতিতে, ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে জরিপকারীদের দাবি, এ জরিপের আস্থার পরিমাণ ৯৫ শতাংশ। তবে আরও নিশ্চয়তার ভিত্তিতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এদিক-সেদিক হতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চের পক্ষে জরিপটি পরিচালনা করেছে একটি স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সিএপিআই পদ্ধতিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে। জরিপ অনুসারে, জাতীয় পার্টিকে ভোট দেবেন ৫ শতাংশ ভোটার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ভোট দেবেন ৪ শতাংশ ভোটার। এবং অন্যান্য দলকে ভোট দেবেন ৮ শতাংশ ভোটার। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীকে ভোটের সমর্থনের এ অল্প ব্যবধান বিশ্লেষকদের চোখে বড় রাজনৈতিক বার্তা।
ড. ইউনূস সরকারের ওপর সন্তুষ্ট ৭০ শতাংশ মানুষ: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট বলে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) এক জরিপে উঠে এসেছে। আইআরআই’র সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চের পরিচালিত এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৯ শতাংশ বলেছেন ড. ইউনূস ভালো কাজ করছেন। আর ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট। মার্কিন ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে রিপাবলিকান পার্টি ঘনিষ্ঠ অলাভজনক সংস্থাটির জরিপে বলা হয়, ড. ইউনূস ভালো কাজ করছেন। ইউনুস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপক আস্থা প্রকাশ করেছেন।
আইআরআই জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সিএপিআই পদ্ধতিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে। এই জরিপে ৪ হাজার ৯৮৫ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশের আটটি বিভাগের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। রাঙ্গামাটি জেলা থেকে কোনো নমুনা বাছাই করা হয়নি। জরিপকারীদের দাবি, এই জরিপের আস্থার পরিমাণ ৯৫ শতাংশ। তবে আরও নিশ্চয়তার ভিত্তিতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এদিক-সেদিক হতে পারে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৯ শতাংশ বলেছেন, ড. ইউনূস ভালো কাজ করছেন। আর ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট।
জরিপে দেখা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহও অনেক। ভোট দিতে খুবই আগ্রহী বলে জানিয়েছে ৬৬ শতাংশ ভোটার। আর ২৩ শতাংশ ‘কিছুটা আগ্রহী’ বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে বিশ্বাস করেন জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ লোক।
আইআরআই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র পরিচালক জোহান্না কাও বলেন, স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে মানুষ অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন। তার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের এ আস্থা স্থিতিশীলতা, জবাবদিহি ও সংস্কারের ব্যাপক প্রত্যাশা তুলে ধরে। তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের এ উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রমাণ করে সংস্কার প্রক্রিয়া ধরে রাখা এবং নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইআরআই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে জনমত জরিপ পরিচালনা করে। নীতিমালা, রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য সংস্থাটি থেকে এ জরিপ করা হয়। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল ও ইস্যুভিত্তিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন ব্যবধান এতটাই কম যে ছোট দলগুলোর অবস্থান এবার নির্বাচনকে নতুনভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে এনসিপি, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলন-তিন দলের সমর্থন যেদিকে ঝুঁকবে, সে জোটের পাল্লাই ভারী হয়ে উঠতে পারে। তবে আসন নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের নির্বাচনী পদ্ধতি। ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট ব্যবস্থায় যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবে, সে জিতবে। ফলে দুই দলের জনসমর্থন কাছাকাছি হলেও বাস্তবে কোন দল কত আসন পাবে, তা নির্ভর করবে মাঠের লড়াই ও স্থানীয় সমীকরণের ওপর।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ