* উত্তরাঞ্চলে হিমেল হাওয়া, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
ডিসেম্বরে মাঝামাঝি শৈত্যপ্রবাহের আভাস
- আপলোড সময় : ০২-১২-২০২৫ ০৫:০০:৪৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১২-২০২৫ ০৫:০০:৪৬ অপরাহ্ন
দেশজুড়ে শীত নামার গতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হিমেল হাওয়া জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে। সকালে কনকনে ঠান্ডা, দুপুরে ম্লান রোদ-সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। এরইমধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এখন বিরাজ করছে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। সেখানে তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঘিরে ওঠানামা করছে। এই অঞ্চলে এখন কনকনে হিম বাতাসে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, যা শীত জেঁকে বসার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কিন্তু দেশের অন্যান্য প্রান্তের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। রাজধানী ঢাকায় শীতের আমেজ এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি; দিনের বেলায় সূর্যের তীব্রতা উষ্ণতা ধরে রাখছে, যা তীব্র শীত উপভোগে বাধা দিচ্ছে। তবে আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, উত্তরের এই হিমেল বার্তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের তীব্রতা অব্যাহত। গত রোববার জেলার তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোরের হালকা কুয়াশা সকালের রোদ ওঠার পর কাটলেও শীতের দাপট কমছে না। এর আগে শীতের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়টি হবে এ মৌসুমের সবচেয়ে ঠান্ডা সময়। এই সময়ে দেশের বড় অংশ মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়বে। উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রভাব আরও তীক্ষè হবে, যা দৈনন্দিন জীবন, পরিবহন এবং কৃষিকাজে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
এদিকে শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর এলাকা। কুয়াশা এতটাই ঘন যে, তা বিমান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। সকালে সব ফ্লাইটই প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে বা অবতরণ করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার হলেই ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শীত ধীরে ধীরে নামছে এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই তা আরও তীব্র হতে পারে, শুরু হতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। শৈত্যপ্রবাহের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে উত্তর ও পশ্চিমের জেলাগুলোর ওপর। এই অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী। তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ, এই সময়টিই হবে এ মৌসুমের সবচেয়ে শীতল পর্ব। মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশের বড় অংশ কাঁপতে পারে। এতে কৃষিকাজ, পরিবহন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি বাড়বে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। দেশে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নাটোর এবং রাজশাহীতেই শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব বেশি অনুভূত হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ এখনও বাংলাদেশের উপকূল থেকে দূরেই অবস্থান করছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে ঝড়টি বাংলাদেশের দিকে আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সমুদ্র এখনও উত্তাল থাকায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ বলছেন, ডিসেম্বরে সমুদ্রের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল থাকে না। তাই বছরের বাকি সময় উপকূলে কোনো ঝড় আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় কৃষকরা স্বস্তিতে আছেন। আলু, ভুট্টা, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনসহ শীতকালীন শস্যের রোপণ গতি পেয়েছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের তীব্রতা আগের মতোই প্রবল। সকালে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় পথঘাট ফাঁকা থাকে। বেলা বাড়লে কিছুটা রোদ মিললেও শীতের প্রকোপ কমে না।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার