আইসিইউ থেকে ভেন্টিলেশনে
সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া
- আপলোড সময় : ০২-১২-২০২৫ ০২:৫০:৪৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১২-২০২৫ ০২:৫০:৪৩ অপরাহ্ন
* সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসায় এভারকেয়ারে বিদেশি মেডিকেল টিম
* চিকিৎসায় বারবার হোঁচট, তবুও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া
* তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুজব-বিভ্রান্তিতে কান না দেয়ার আহ্বান
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তার শারীরিক অবস্থা গত কয়েক দিনে আরও অবনতি হয়েছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাও সংকটাপন্ন হওয়ার খবরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে ভিড় করছেন তার দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা। জড়ো হচ্ছেন সাধারণ মানুষও। সিসিইউ থেকে আইসিইউ, আইসিইউ থেকে ভেন্টিলেশন, খালেদা জিয়া খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে আছেন। এর বাইরে বলার মতো কিছু নেই। শুধু ম্যাডামের জন্য জাতির কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
এর আগে চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল জানান, ‘ম্যাডামকে আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আল্লাহর বিশেষ রহমত প্রার্থনা করি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত চিকিৎসকরা নিয়ে থাকেন। ‘চিকিৎসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে যে মুহূর্তে কোনো তথ্য দেবেন, আমরা তা জানিয়ে দেবো। এর বাইরে কোনো সূত্র থেকে তথ্য প্রকাশ না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করছি,’ বলেন তিনি। শায়রুল আরও জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে গণমাধ্যমকে অনুরোধ করা হয়েছে। ‘ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন ছাড়া অন্য কোনো বক্তব্য ব্যবহার না করতে অনুরোধ করছি,’ বলেন তিনি। একই সঙ্গে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। লিভারের জটিলতা, কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় দলের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছেন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা দিতে পাঁচ সদস্যের একটি বিদেশি মেডিকেল টিম এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছে। এ টিমের অধিকাংশ চিকিৎসক চীনের নাগরিক বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান ভবনে প্রবেশ করে বিদেশি মেডিকেল টিম। তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। মেডিকেল বোর্ডের মতে, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ মতামত প্রয়োজন। এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
এর আগে গত রোববার তিনি হাসপাতালের শয্যায় অল্প নড়াচড়া করেছেন, কথাবার্তায় সাড়াও দিয়েছেন। চিকিৎসকরা বলেন, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। এই মুহূর্তে দেশেই সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে নানান ধরনের গুরুতর রোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসার ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, অনেক বছর ধরেই খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানান জটিলতায় ভুগছেন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন সবশেষ জানান, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পরের দুই বছর দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে একাকী সময় কাটান। সে সময় কারাগারে নিলে তার স্বজনরা সাক্ষাৎ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, খালেদা জিয়া অসুস্থ। এ কারণে তিনি দেখা করতে পারবেন না।
এ তথ্য জানিয়ে পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার পা, হাঁটুসহ সারা শরীরে ব্যথা এতটাই তীব্র হয়েছে যে, তিনি তার জেলকক্ষ থেকে ওয়েটিং রুম পর্যন্ত আসতে পারেননি।’ সরকারের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে অর্থপেডিক বেড দেওয়ার জন্য যে সুপারিশ করেছিল সেটিও কারা কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেনি বলে জানান রিজভী।
ওই সময় এক প্রতিবেদনে জানায়, খালেদা জিয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা কারাগারে একজন চিকিৎসক থাকেন। রাতে কেবল তার জন্যই একজন চিকিৎসক কারা ফটকের একটি কক্ষে ঘুমান। তার পাশের রুমেই থাকেন একজন নার্স। কারাগারের ভেতর নিয়মিত হাঁটাচলাও করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কারাগারে থাকাকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে কয়েকবার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। যদি দেশে সে সময় তার পছন্দ ছিল ইউনাইটেড হাসপাতাল। বারবার আবেদনেও আওয়ামী লীগ সরকার চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে সবশেষ তিনি বিদেশ যান। তাকে বিদেশে নিতে আন্দোলন-বিক্ষোভও করেন তার দলের নেতাকর্মীরা।
কারাবন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়াকে একাধিকবার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (তৎকালীন বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। যদিও দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালেদা দেশে শুধু ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চান। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে সাক্ষাৎ করতে পারেন খালেদার পরিবারের কয়েকজন সদস্য। পরে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর খালেদা জিয়ার বড় বোন বেগম সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া উঠে দাঁড়াতে পারছেন না। তার সারা শরীরে ব্যথা। এমনকি মুখে তুলে খেতেও পারেন না। এরপরও তাকে কয়েকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
২০২১ সালের মে মাসে ঢাকায় নিজের বাসায় বন্দি থাকা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। তখনও তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিল।
খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন ২০২১ সালে। ওই সময় সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা বলেন, তাদের সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু করার ছিল, তারা তারা করেছেন। পরবর্তী চিকিৎসা যুক্তরাজ্য, জার্মানি অথবা যুক্তরাষ্ট্রে করার ব্যবস্থা করার জন্য পরিবারকে বলেছেন। খালেদা জিয়া তখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা। সে বছর জুনের দিকে হঠাৎ একদিন মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে এনজিওগ্রাম করানো হয় তার। দেখা যায়, তার মেইন আর্টারির ৯৯ শতাংশ ব্লক। পরে রিং বসানো হয় হার্টে। এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল।
২০২৪ সালের জুনে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে তার শরীরে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেময় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডামের হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে ব্লক ছিল। আগে একটা রিং পরানো হয়েছিল। সবকিছু পর্যালোচনা করে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে পেসমেকার বসানো হয়।’ ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। এরপর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান তিনি।
পরে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ বলেন, ম্যাডামের নানা শারীরিক জটিলতা রয়েছে, যা আমরা বিভিন্ন সময় বলেছি। সর্বোপরি ওনার লিভারের জটিলতা অর্থাৎ লিভার সিরোসিস পরে কম্পেনসেন্টারি লিভার ডিজিজ বলে গ্রেট-টু সেটার জন্য টিপস (চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশেষ পদ্ধতি টিআইপিস-টিপস) করা হয়েছে। টিপসের কিছু টেকনিক্যাল অ্যাসপেক্ট আছে অ্যাডজাস্টমেন্টের বিষয় আছেৃ আপনি দেখতে হার্টে স্টান্টিং করার পর চেক করে আবার সেটার জন্য রি-স্টান্টিং করে অথবা চেক করে দেখে যে, স্টান্টিংটা ভালোভাবে কাজ করছে কি না- এই জিনিসগুলো তো আমরা করতে পারি নাই।
‘হার্টে উনার ব্লক ছিল একাধিক। আমরা খালি লাইফ সেভিং যেটুকু পোরসন সেটুকু করা হয়েছিল ওই সময়ে। কারণ ওই সময়ে উনার শারীরিক সুস্থতা ওইরকম ছিল না। ওনার আরও যে ব্লক আছে সেটা অ্যাড্রেস করার দরকার আছে, ওনার ক্রনিক কিডনি ডিজিজ যেটা আছে সেটা অ্যাড্রেস করতে হবে- উনার করোনা পরবর্তিতে কিছু জটিলতা হয়েছে সেগুলো নিরসন করার ব্যবস্থা নিতে হবে- এটা ওভারঅল থ্রো চেকিংয়ের জন্য যেটা আমাদের দেশে হয়েছে... আমাদের দেশের ফিজিশিয়ানরা, এভারকেয়ার হাসপাতালের স্টাফ তারা বেস্ট- এ ব্যাপারে আমাদের ম্যাডামের পক্ষ থেকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ডি-স্যাটিসফেকশন নাই, সবাই হ্যাপি, উই আর হ্যাপি অলসো, দল হ্যাপি। কাজেই আরও কিছু উন্নত করার জন্য সেখানে আরও থ্রো চেকিং হবে।’ প্রায় চার মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে দেশেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
সবশেষ গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরেন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়। এ অবস্থায় গত ২৩ নভেম্বর তাকে জরুরিভিত্তিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা জানান তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা আছে। তার কিডনি ডায়ালাইসিসও করতে হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘সিসিইউতে পূর্বের মতোই চিকিৎসাধীন আছেন’। তার চিকিৎসা নিয়ে কারও বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানান ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এতে কেউ যেন কান না দেয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি শুধু বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর নেত্রীও নন। গতকাল সোমবার সারাদেশের মানুষ-পেশাজীবী, সুশীল সমাজ, ছাত্র, যুবক, শ্রমিক ও কৃষক-সবাই তার জন্য দোয়া করছেন। তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে গোটা জাতি সোমবার এক বেদনাবিধুর অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বন্দি থাকা অবস্থায় নিজের সন্তান হারিয়েছেন। অনেক নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। তবুও তাকে নিজের দেশ থেকে সরাতে পারেনি। তার বিরুদ্ধে অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হয়েছে, অনেক নির্যাতন হয়েছে। একটি ভগ্নস্তূপের মতো জেলখানায় তাকে বছরের পর বছর রাখা হয়েছে। তারপরও তাকে এই দেশ ও মাটি থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। আজ সারা জাতি তার জন্য দোয়া করছেন। বিএনপির এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ তাকে খুব দ্রুত আরোগ্য দান করুন, সুস্থ করে তুলুন এবং আবারও এদেশের মানুষের কাছে, জনগণের কাছে তাকে ফিরিয়ে দিন। দলের চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রিজভী বলেন, তিনি বর্তমানে সিসিইউতে আছেন। আগে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল, গতকাল ও গত পরশু যেমন ছিল, আজও তেমনভাবেই চিকিৎসা চলছে। এর বাইরে আর কোনো নতুন আপডেট নেই। অন্য যে যা-ই বলুক, এতে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হয়। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এখনো খুব গভীর সংকটের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ, তবে গত রোববার বা গত পরশু যে অবস্থায় ছিলেন, সোমবারও তিনি একই অবস্থায় আছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার