* প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা নেন মেয়েসহ দুই বোন
* সব সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত
* রায়ে দুদকের অসন্তোষ, হয়নি প্রত্যাশা পূরণ
ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে শেখ রেহানার ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলাটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ৫ বছর কারাদণ্ড, তার বোন শেখ রেহানার ৭ বছর কারাদণ্ড, মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের ২ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও অন্য ১৪ জন অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কারা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন। মামলায় শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ১০ মার্চ আরও দুই আসামি যুক্ত হয়ে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ এবং পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া দুই আসামি-সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এই মামলায় ৩২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পরে মামলাটির সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মঈনুল হাসান তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, আমরা সব সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।
এদিকে রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ অন্য আসামিদের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের আইনজীবীরা জানান, এই রায়ে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। গতকাল সোমবার রায় ঘোষণার পর মামলাটির সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মঈনুল হাসান বলেন, আমরা সব সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন দণ্ডবিধির আলোকে অভিযোগ এনেছিলাম এবং সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। সেটা হয়নি। এখন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।
রায়ের শুরুতেই বিচারক বলেন, উপস্থাপিত সব সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। শেখ রেহানার অবৈধ সুবিধা গ্রহণ, টিউলিপ সিদ্দিকের প্রভাব খাটানো এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনিয়মের বিষয়টি আদালতে স্পষ্ট হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিরাও দুর্নীতি ও অনিয়মে সহযোগিতাকারী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন বিচারক। টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় এই মামলায় তার বিচার হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি
হাসিনার পাঁচ রেহানার সাত টিউলিপের দুই বছর কারাদণ্ড
- আপলোড সময় : ০১-১২-২০২৫ ১০:২৬:৪৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১২-২০২৫ ১০:২৬:৪৯ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার