ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোথাও যাতে এক ইঞ্চি জমি অনাবাদি না থাকে, যে যেভাবে পারেন উৎপাদন বাড়ান। তিনি আরও বলেছেন, ভিক্ষুক জাতির মর্যাদা থাকে না। কারও কাছে ভিক্ষা কিংবা হাত পেতে চলতে চাই না। মাথা উঁচু করে যাতে চলতে পারে বাংলাদেশ, সেভাবেই দেশকে গড়ে তুলছি আমরা। গতকাল মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লালমনিরহাট, কক্সবাজার এবং ভোলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের কাছে জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সরকারের আবাসন কর্মসূচি আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৭০টি উপজেলার গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে ১৮ হাজার ৫৬৬টি বাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখায়, তাদের সেবা করা আমাদের দায়িত্ব। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পাশে আছে সরকার। যাদের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের ঘর নির্মাণ ও সংস্কার করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রত্যেকের মৌলিক চাহিদা যাতে নিশ্চিত হয়, সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। কোনোভাবেই দেশ ও দেশের মানুষ পিছিয়ে থাকবে না। বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতে অনেক টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে সবাইকে। প্রতিটি জিনিস নিজের মনে করে যত্ন নিতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর। সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা আমাদের কর্তব্য। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবেই মনে করি। আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা পুনর্বাসিত হয়েছে, তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদাবোধ ফিরে এসেছে। দেশকে উন্নত করতে এটাই সবচেয়ে প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের পাশে সবসময় আছি, থাকবো। তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রত্যেকের ঘরের ব্যবস্থা করে দেবো। যারা ঘর পাচ্ছেন, এটা এখন তাদের নিজেদের সম্পত্তি। ঘরবাড়ি তৈরি করে কীভাবে মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারি, সে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঘরগুলো ব্যবহারে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনোমতেই দেশের জনগণ পিছিয়ে থাকবে না। কারো কাছে ভিক্ষা নিয়ে, হাত পেতে চলতে চাই না। যতটুকু সম্পদ আছে, তা নিয়েই মাথা উঁচু করে চলবো। যেটুকু সম্পদ আছে, তার যথাযথ ব্যবহার করলে পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। সেজন্য সবার সহযোগিতা দরকার। অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, গাজায় ইসরায়েলের হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য যেটা করা প্রয়োজন, সেটাই করছি।
কারামুক্তি দিবসের স্মরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই মিথ্যা মামলায় আমাকে গ্রেফতার করা হয়। ১১ জুন বন্দীখানা থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম। আমাদের নেতাকর্মী, সহযোগী সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র, সাধারণ মানুষ, যারা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। জাতির কাছে আমি কৃতজ্ঞ। জনগণের যে সমর্থন ভালোবাসা পেয়েছিলাম, সেটা ভোলার নয়। সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের আবাসন কর্মসূচি আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে আরও ১৮ হাজার ৫৬৬টি বাড়ি হস্তান্তর করেন তিনি।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পঞ্চম পর্বের দ্বিতীয় ধাপে ১৮ হাজার ৫৬৬টি গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তরের পাশাপাশি তিনি ২৬ জেলার সব উপজেলাসহ আরও ৭০টি উপজেলাকে ভূমি ও গৃহহীন মানুষ মুক্ত ঘোষণা করা হয়। এ অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটে ১ হাজার ২৮২টি, কক্সবাজারে ২৬১টি এবং ভোলা জেলায় ১ হাজার ২৩৪টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়। নতুন ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত জেলা ও উপজেলা নিয়ে সারা দেশে জেলার মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮টি এবং উপজেলা হচ্ছে ৪৬৪টি। প্রকল্পের আওতায় ভূমি ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবারকে দুই দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিকানা দিয়ে একটি আধা-পাকা বাড়ি দেয়া হচ্ছে, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই হবে। প্রতিটি বাড়িতে দুটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট এবং বারান্দা রয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৬৩ হাজার ৯৯৯টি, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৩৩০টি, তৃতীয় ধাপে ৫৯ হাজার ১৩৩টি এবং চতুর্থ ধাপে ৩৯ হাজার ৩৬৫টি বাড়ি বিতরণ করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

দলিলসহ সাড়ে ১৮হাজার বাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি তৈরি করে দেব
- আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৪ ০৯:৪৪:০৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৪ ১০:৪৩:১২ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ