গলাচিপা (পটুয়াখালী) থেকে রাকিবুল হাসান
হেমন্তের শেষ দিকে আমনের গোছা গোছা থোকা এখন দুলছে মাঠে। হিমেল হাওয়া আর কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর ও বিকেল শীতের প্রারম্ভিক বার্তা জানান দিচ্ছে ক’দিন ধরে। এর মধ্যে খেজুর গাছের পরিচর্যায় গাছিদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে আর ক’দিন পরেই মিলবে খেজুরের রস। যা গ্রাম বাংলার অবশিষ্ট নিদর্শন হিসেবে এখনো অম্লান। তবে এই খেজুরের গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় এই রস আস্বাদনকারী ভোক্তা ও উপকার ভোগীগণ হতাশ। তবে প্রত্যাশার বিষয় এই যে সরকারিভাবে ও উপজেলা কৃষি বিভাগ এখন থেকে খেজুর গাছ লাগানোর বিষয়ে কিছু উদ্যোগ নেয়া শুরু করেছে।
বাংলার ষড়ঋতুতে হেমন্তের রূপবৈচিত্র্যতায় প্রকৃতিপ্রেমীরা ভিন্ন রকমের নান্দনিক সমৃদ্ধতা খুঁজে পান না শীত না গরমের মাঝে হিমেল হাওয়া কানের কাছে ফিসফিস করে বলে যায় শীত আসছে, সঙ্গে দেখা মিলে পরিযায়ী পাখির।
খেজুর রসের অধ্যায় শীতকালে মুখ্য হলেও কার্তিক বা অগ্রাহায়ন মাসেই দেখা যায় গাছীরা খেজুর গাছ প্রস্তুত করে হাড়ি দিচ্ছে গাছে। নতুন ধানের চাল খেজুর রসে নবান্নের পিঠাপুলি যেন আলাদা মাত্রা পায়। ধোঁয়া ওঠা চুলার পাশে মা-বোনেরা খেজুর রসের হাড়ি বসান, শিশুরা চুলার পাশে হাতে ঘষে উষ্ণতা খুঁজে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন গাছিরা। মধ্য ডাকুয়া গ্রামের গাছি সোলেমান খান (৫৭) জানান, শীতের মৌসুমে আমি খেজুর গাছ নিয়েই পড়ে থাকি গাছ কাটা, হাঁড়ি পাতা, সরানো এবং জাল দিয়ে গুড় তৈরি করা তা বিক্রি করা এসবই আমি ও আমার পরিবার করে থাকি। তবে যেভাবে গাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে তাতে মনে হয় ভবিষ্যতে এ কাজ করা যাবে না। পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা এখনো শীতকালে চড়া দামে হলেও খেজুরের রস বা গুড় পেয়ে থাকি কিন্তু ভবিষ্যতে এভাবে চলতে থাকলে বঞ্চিত হবো রস ও গুড় থেকে। এ ব্যাপারে কৃষি অফিস জানান,উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে খেজুর গাছ লাগানো হয়েছে যা ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সচেতন মহলের কেউ কেউ বলছেন, সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে পতিত জায়গায় খেজুর গাছ লাগালে রসের সংকট থাকবে না।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata