রাজউকের গুলশান স্টেট-১ এর কর্মকর্তা মশিউর
শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক
- আপলোড সময় : ১০-১১-২০২৫ ১১:৪৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১১-২০২৫ ১১:৪৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
* তদন্তে মাঠে নেমেছে দুদক
ঘুষের বাণিজ্য চলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাউজক) অফিসে। টাকার খেলা চলে এই অফিসে, টাকা ছাড়া কোন ফাইলই এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে নড়ে না। সরকারি যতগুলো অফিস রয়েছে সব চেয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হলেন রাজউকে। রাজউকের সামান্য একজন পিওন তারও রয়েছে ৪টি বাড়ি ও ৩টি ফ্ল্যাট ছাড়াও অঢেল সম্পত্তি। রাজউকে চাকরি পাওয়ার মানেই হলো সোনার হরিণ হাতে পাওয়া। এ প্রতিবেদন দীর্ঘদিন ২ সপ্তাহ অনুসন্ধান করে রাজউক গুলশান বনানী স্টেট-১ এর কর্মকর্তা মশিউর রহমানের নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার ক্ষমতার কারণে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থাই নিতে পারেননি। দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের বড় নেতা ছিলেন মশিউর। যার কারণে তার বিরুদ্ধে যতই অপরাধ থাকুক না কেন, এতে নাক গলানোর সাহস কারই ছিলো না। নামজারি করার জন্য মশিউর ঘুষ নেন ১ লাখ টাকা। কোন ক্ষেত্রে দেড় লাখ টাকা ও ঘুষ নেন মশিউর। সূত্র জানায়, মশিউর রহমানের প্রভাব এতই বেশি যে তিনি অফিসেই বসেই সিগারেট পান করেন। মশিউরের সহকারী রয়েছে ২ জন নাসির ও সুজন। নাসির সব সময় মশিউরের চেয়ারেই এসে বসে থাকেন। কারণ মশিউরকে তেমন অফিসে পাওয়া যায় না। তার সব কাজ নাসির করে থাকেন। তার ঘুষ বাণিজ্যটা তিনি নিজেই করেন। আর সুজন থাকেন অফিসের বাহিরে। এই দুই জনকে মশিউর বেতন দেন ৯০ হাজার টাকা। অথচ মশিউরের নিজের বেতন ৪০ হাজার টাকা। তার ভয়ে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব সময় থাকেন তটস্থ। কারণ তার সাথে সম্পর্ক রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে। গত সপ্তাহের রাজউকের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তালাশ টিম সরেজমিনে গিয়ে এই অসাধু কর্মকর্তাদের কুকর্ম তুলে ধরেন। এই অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এত কিছু হওয়ার পরও রাজউক কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। একটি সূত্র জানান, মশিউর শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে এই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে। গুপিবাগ এলাকায় রয়েছে বিশাল ২টি বাড়ি, রাজউক পূর্বাচলে তার স্ত্রীর নামে একাধিক প্লট, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট, কোন কিছুরই যেন অভাব নেই এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার।
এ ব্যাপারে গুলশান, বনানী স্টেট১-এর কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তার মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোন অভিযোগ আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অদৃশ্য শক্তির বলে মশিউর বহাল তবিয়তে থেকে নানা অপকর্ম করে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়ে সম্পদ গড়েছেন। রাজউকে এ রকমের বহু মশিউর রয়েছে যাদের সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষ সব কিছু জানার পরও কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। কারণ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যারাই আসেন তাদেরকে ম্যানেজ করেই এই ধরনের অপকর্ম যুগের পর যুগ চলে আসছে। রাজউকের পিওন থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত সব কর্মকর্তা কর্মচারি রয়েছে একাধিক বাড়ি, গাড়ি প্লট ও ফ্ল্যাট। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারণে অধীনস্থ কর্মচারীরা এই ধরনের দুর্নীতি করতে সাহস পান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আবু জাফর