
আসছে বাজেট : সাধারণ মানুষের কথা ভাবুন


চলমান মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। তবে আসন্ন বাজেটে এ দুই শ্রেণির জন্য এবারের বাজেটে কোনো সুখবর নেই। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ থাকছে না। উল্টো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণে রাজস্ব আয় বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, তাতে সংসার খরচ আরও বাড়বে। পথের ভিখারি থেকে ধনিকশ্রেণির মানুষকে ভ্যাটের ভারও বইতে হবে। আমরা দেখছি, অর্থমন্ত্রী আইএমএফ’র শর্ত পূরণ করতে গিয়ে বাজেটে অর্থ সংগ্রহের দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। অবশ্য ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে কয়েক বছর ধরে নানামুখী সংকট বিদ্যমান। বাংলাদেশও যে এর বাইরে নয়, তা বলাই বাহুল্য। তবে দেশ থেকে টাকা পাচার বেড়ে যাওয়া, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব, মুদ্রার বিনিময় ও সুদের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি, সর্বক্ষেত্রে অপচয়, অদক্ষতা ও সুশাসনের যে অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য শুধু ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করা চলে না, অভ্যন্তরীণ কারণও এজন্য দায়ী। উল্লেখ্য, আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক জটিল প্রেক্ষাপটের মধ্যে এ বছরের বাজেটের সঙ্গে আরও কয়েকটি বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। যেমন, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা) থেকে উত্তরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শেষের দিকে, ফলে নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের কিছু প্রত্যাশাও আছে। এ মুহূর্তে ভূ-রাজনৈতিক যে কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে এ কাজগুলো সম্পাদন করা সহজ হবে না। এবার ট্রাংগুলেশন অফ প্রবলেমস অর্থাৎ তিনটি সমস্যা একত্র হয়েছে। যেমন এখনো মূল্যস্ফীতির মতো সমস্যা বর্তমান, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশি-বিদেশি ঋণ ঝুঁকি। এ ছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে ধারা ছিল, সাম্প্রতিককালে তা হ্রাস পাচ্ছে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি কর আহরণ ও সরকারের খরচ করার ক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে, যা আগামী বাজেটকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট বাস্তবায়নে অপচয় রোধ, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ এবং সুশাসন নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক খাত সংস্কারে নিতে হবে বড় ধরনের উদ্যোগ। আইএমএফের শর্ত মেনে নয়, আমরা মনে করি, ট্রাংগুলেশন অফ প্রবলেমসের অন্যতম মূল্যস্ফীতিকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, গ্রাম হোক কিংবা শহর, মূল্যস্ফীতি সব জায়গার মানুষকেই আঘাত করছে। এ ছাড়া বাস্তব পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি ঋণ গ্রহণেও রাশ টানতে হবে। কোনো প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের আগে তা জনগুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কি না, বিবেচনা করতে হবে। ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধেও নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ। একইসঙ্গে বাজেটের সফল বাস্তবায়নে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে মনোযোগ বাড়াতে হবে। রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধিতে যেমন জোর দিতে হবে, তেমনি আমদানিতেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন। দৃঢ় অর্থনীতি ও বাজেটের সফল বাস্তবায়নে প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় এবং অদক্ষতা ও সুশাসনের যে অভাব রয়েছে, তা নিরসনে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ