বাংলাদেশের নারীরা গৃহস্থালিতে অবৈতনিক যে কাজ করেন, হিসাবে ধরলে তার পরিমাণ জিডিপির প্রায় ১৫ শতাংশে দাঁড়াবে জানিয়ে এর স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে। গতকাল রোববার ঢাকায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান আশ্বাস দিয়েছেন, এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন তিনি। নারীদের গৃহস্থালির অবৈতনিক কাজ নিয়ে ২০২১ সালে একটি গবেষণা করেছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএস। গতকাল রোববার আলোচনা অনুষ্ঠানে ওই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক কাজী ইকবাল বলেন, আট হাজার পরিবারে প্রায় ১৮ হাজার মানুষের মধ্যে ‘টাইম ইউজ সার্ভে’ করেছিলেন তারা। জিডিপির হিসাবে আনলে তার আর্থিক পরিমাণ কত হত, সেটি গবেষণায় দেখা হয়েছে। “নারীরা গৃহস্থালিতে অবৈতনিক যে কাজ করেন, ২০২১ সালের জিডিপির হিসাবে তা হত ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর পুরুষদের অবৈতনিক কাজের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮০ শতাংশ।” নারীদের গৃহস্থালির কাজকে স্বীকৃতির আওতায় আনার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। আসন্ন বাজেটেই নারীদের বৈতনিক কাজের অর্থনৈতিক দিকের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তারা। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “আমরা চাই, আগামী বাজেটে নারীর কাজ মূল্যায়ন করে স্যাটেলাইটস সিস্টেম অব অ্যাকাউন্টস ব্যবহার করে, আমরা সমান্তরালভাবে দেখাব, যদি জিডিপিতে আসত, তাহলে এটার মূল্য এত।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা অনুষ্ঠানে বলেন, “আমরা গবেষণায় দেখেছি, নারীর অবৈতনিক কাজ যদি ১ ঘণ্টা কমানো হয়, তাহলে মূলধারা শ্রম বাজারে তার কাজ করার সম্ভাবনা ২ শতাংশ বেড়ে যায়।” অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা বলেন, এবারের বাজেট বক্তৃতা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে, এই স্বীকৃতি যাতে কোনোভাবে আসে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে তিনি বলবেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট অর্থনীতি গৃহস্থালির ‘কেয়ার ইকোনমি’ বাদ রেখে হবে না। সেজন্য তাদের অবৈতনিক গৃহস্থালির কাজকে জিডিপির বাইরে রাখার কোনো কারণ নাই। তাদের এই অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করে তাদের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।” দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম সভায় নারীদের গৃহস্থালির কাজের অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করার কথা তুলে ধরেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “অর্থনৈতিক উদ্বেগের পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্ববোধ ও বণ্টনের বিষয়ও আমাদের তুলে ধরতে হবে। সন্তান লালন-পালন নিশ্চিতভাবে ‘বাজার কার্যক্রম’ নয়। আমাদেরকে সেটা বুঝতে হবে। এটার অন্য অনেক দিক থাকতে পারে, কিন্তু এটাকে বাজার কার্যক্রমে’ নিয়ে আসা ঠিক হবে না। “বিশ্বব্যাপী এটি এখন আলোচনার বিষয়বস্তু যে, কীভাবে পুঁজিবাদী বিশ্ব তার বাইপ্রোডাক্ট হিসাবে সব কিছুকে বাজারি অর্থনীতিতে নিয়ে আসছে। এ কারণে অবৈতনিক কাজকে কেবল কেয়ার ইকোনমির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা ঠিক হবে না।” তবে, পারিবারিক ‘রীতির রূপান্তরও’ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মত বিষয় হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিদিশা বলেন, “সঠিক বরাদ্দ দিয়ে উদ্যোগ নিলে লিঙ্গভিত্তিক রীতিরও পরিবর্তন করা যায়। তবে, এটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।” ‘রিকগনিশন অব আনপেইড কেয়ার ওয়ার্ক: এ স্টেপ টোয়ার্ডস ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড সোশ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট অব উইমেন’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে ইউএন উইমেনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বক্তব্য দেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

নারীর গৃহস্থালির ‘অবৈতনিক’ কাজকেও জিডিপির হিসাবে অন্তর্ভুক্তির দাবি
- আপলোড সময় : ২৭-০৫-২০২৪ ০২:০৪:৪৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-০৫-২০২৪ ০২:০৪:৪৩ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ