ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

ভিটে-মাটি রক্ষায় বাঁশের বাঁধ ॥ তবুও ভাঙন শঙ্কায় ব্রহ্মপুত্র পাড়ের মানুষ

  • আপলোড সময় : ২৪-০৫-২০২৪ ০১:০০:০৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৫-২০২৪ ০১:০০:০৯ অপরাহ্ন
ভিটে-মাটি রক্ষায় বাঁশের বাঁধ ॥ তবুও ভাঙন শঙ্কায় ব্রহ্মপুত্র পাড়ের মানুষ
জামালপুর প্রতিনিধি
গত বছর বর্ষা মৌসুমে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে শত শত একর ফসলি জমি ও হাজারো ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা নদের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন অনেকেই
এ অবস্থায় ভাঙন রোধে নিজেদের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এক কিলোমিটার এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁশের বাঁধসবশেষ এই চেষ্টায় বাঁধ নির্মাণের পরেও আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রাভাঙনে গত কয়েক বছরে হারিয়ে গেছে দশটি গ্রাম ও সরকারি স্থাপনাসহ একরের পর একর ফসলি জমি১৯৭৪ সালে এলাকাটি প্রথম ভাঙনের কবলে পড়ে
৫০ বছরের ব্যবধানে নদের ভাঙনে ইউনিয়নটির প্যোলাকান্দি নামাপাড়া, মধ্যপাড়া, পূর্বপাড়া, ফারাজীপাড়া, মাদারেরচর, মদনেরচর ও গুমেরচর গ্রামের বেশির ভাগ অংশ নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে বসত-বাড়ি হারিয়েছে দুই হাজার পরিবারনদের পাড়ে পোল্যাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে প্রায় ১ হাজার পরিবারের বসবাসরয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মসজিদ-মাদরাসাও
সম্প্রতি পোল্যাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, নদের পানি শুকিয়ে গিয়ে মনে হচ্ছে নদটি মরে গেছেকিন্তু কিছু দিন পর এই নদের স্রোতই রাক্ষুসে রূপ নেবেভাঙবে ফসলি জমি, বাড়িসহ সরকারি স্থাপনাতাই গ্রামবাসী মিলে স্বেচ্ছাশ্রম ও টাকা দিয়ে তপ্ত রোদে চরেই বাঁশ পোতার কাজ করছেনশুধু বড়রা নয় তাদের সহায়তা করছে শিশুরাওবন্যার সময় ভাঙন শুরু হলে ২০০ মিটার দূরেই স্থাপনাগুলো ভেঙে যাবেতাই এই বাঁশের বাঁধ নির্মাণ করছেন তারা
জানা গেছে, নদের এক কিলোমিটারজুড়ে এই ভাঙন রোধে স্থানীয় মানুষের অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে সাতটি বাঁশের পাইলিং বাঁধ নির্মাণ করা হবেপ্রতিটি বাঁধের দৈর্ঘ্য হবে ৯০ ফুটপ্রতিটি বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১ লাখ টাকা করে খরচ হবেএতে তাদের প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হবেমিজানুর রহমান নামে একজন বলেন, আমরা খুব অসহায় মানুষনদী ভাঙতে ভাঙতে আমাদের অবস্থা আজ একবারে ফকিরের মতোএই নদী যদি এইটুকুও ভেঙে নেয় তাহলে আমাদের পথে নামতে হবে সন্তান স্ত্রী নিয়েতাই বাধ্য হয়ে আমরা সাবাই মিলে কয়টা করে টাকা দিয়ে যার টাকা নায় তার শ্রম দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করছিতবে এই বাঁধে কিছু হবে নাযখন নদীর পানি বাড়ে সব কিছু ভেঙে নিয়ে যায়
স্থানীয় বাসিন্দা আহাম্মদ আলী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে জানানো হলেও নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগআমাদের নদের ভাঙন রোধে সরকারিভাবে যেন হস্তক্ষেপ করেযেন আমাদের আর বাড়ি ঘর নদীতে না যায়দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে স্থানীয় মানুষের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে
আশা করছি খুব দ্রুত এসব এলাকায় ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবেজামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্যোলাকান্দি এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের যে অংশে ভাঙন রয়েছে, সেখানে ভাঙন রোধে ইতোমধ্যেই প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছেপ্রস্তাবটি প্রক্রিয়াধীনঅনুমোদন পেলেই প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু হবেআগামী বর্ষার আগেই কাজটি বাস্তবায়ন হবে আশা করা হচ্ছে
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য